এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনগামী এক নারী যাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ পিস ইনসুলিন সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাবে উদ্ধার করা সিরিঞ্জগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ঘটনার পর ওই নারী যাত্রীকে আটক করে উদ্ধার করা সিরিঞ্জসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরের ৫ নম্বর হেভি লাগেজ গেটে ঘটনাটি ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যরা ওই যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে নজরদারিতে নেন। পরবর্তী তল্লাশিতে তার সঙ্গে থাকা মালামাল থেকে বিপুল পরিমাণ ইনসুলিন সিরিঞ্জ পাওয়া যায়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ পিসি মো. দুলন মিয়া ও এপিসি গোলাম রাব্বানী প্রথমে ওই যাত্রীর গতিবিধি লক্ষ্য করেন। তাদের নির্দেশনায় মহিলা আনসার সদস্য মোছা. শাহেদা ও শ্রী আলো তাকে তল্লাশি করেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, তল্লাশির একপর্যায়ে ওই নারী দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে আনসার সদস্যরা তা প্রত্যাখ্যান করে তল্লাশি অব্যাহত রাখেন।
পরে এভিয়েশন সিকিউরিটি (AVSEC) কর্তৃপক্ষ, শিফট টিআই জায়েদ হোসেন এবং শিফট ইনচার্জ পিসি মো. নিজাম উদ্দিনের উপস্থিতিতে আরও তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ পিস ইনসুলিন সিরিঞ্জ পাওয়া যায়।
তবে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। পরবর্তী তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার আগে এটিকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি সিরিঞ্জের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা হিসাবে উল্লেখ করেছে।
সে হিসাবে ১ হাজার ৩০০ পিস সিরিঞ্জের মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
তবে এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুমানিক মূল্য। উদ্ধার করা সিরিঞ্জগুলোর ব্র্যান্ড, মডেল, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকৃত ক্রয়মূল্যের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইনসুলিন সিরিঞ্জ নিজে কোনো নিষিদ্ধ পণ্য নয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে এ ধরনের সিরিঞ্জ বৈধভাবে ব্যবহৃত হয়।
তবে একজন আন্তর্জাতিক যাত্রীর কাছে ১ হাজার ৩০০ পিস সিরিঞ্জ পাওয়ায় এগুলো কী উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল এবং প্রয়োজনীয় ঘোষণা বা অনুমোদন ছিল কি না—সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
ব্যক্তিগত চিকিৎসার প্রয়োজনে বহন করা পণ্য এবং বাণিজ্যিক পরিমাণে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কাস্টমস ও গন্তব্য দেশের বিধিবিধান ভিন্ন হতে পারে।
এ কারণেই যাত্রী ও উদ্ধার করা পণ্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার দিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যে একাধিক ফ্লাইট ছিল।
তবে ঘটনাসংক্রান্ত পাওয়া তথ্যে ওই নারী কোন এয়ারলাইন্স বা কোন ফ্লাইটে চীন যাচ্ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
তাই নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্স বা ফ্লাইটকে এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা সমীচীন নয়।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় ওষুধ, ইনজেকশন, সিরিঞ্জ বা অন্য কোনো চিকিৎসাসামগ্রী সঙ্গে নিলে যাত্রীদের আগেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও গন্তব্য দেশের নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তিগত চিকিৎসার প্রয়োজনে সিরিঞ্জ বহনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা প্রয়োজনীয় মেডিকেল ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখা সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী বহন করলে কাস্টমস ডিক্লারেশন, আমদানি-রপ্তানি বিধি বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রী তল্লাশিতে বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে পণ্যের ঘোষণা, শুল্ক এবং কাস্টমস আইনসংক্রান্ত বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পৃথক দায়িত্ব রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নজরদারি ও তল্লাশিতে সিরিঞ্জগুলো শনাক্ত হওয়ার পর AVSEC-এর উপস্থিতিতে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং যাত্রী ও পণ্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তেই পরিষ্কার হবে ১ হাজার ৩০০ সিরিঞ্জের উৎস কী, কী উদ্দেশ্যে এগুলো চীনে নেওয়া হচ্ছিল, প্রয়োজনীয় ঘোষণা বা অনুমোদন ছিল কি না এবং এ ঘটনায় কোনো আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না।
সূত্র: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
মন্তব্য করুন