এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ইতালির সিসিলি দ্বীপের মাউন্ট এটনা আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র সক্রিয়তা দেখা দেওয়ায় কাতানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরির উত্তর-পূর্ব ক্রেটার থেকে নির্গত ছাই বায়ুমণ্ডলে প্রায় চার কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি (INGV) পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বিমান চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের লাল VONA (Volcano Observatory Notice for Aviation) সতর্কতা জারি করে। আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম ধাপে ধাপে সীমিত করা হয়।
অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব বাড়তে শুরু করলে প্রথম পর্যায়ে কাতানিয়া বিমানবন্দরের C1 আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরটিতে ঘণ্টায় প্রায় ১২টি উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারলেও আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে তা প্রথমে ঘণ্টায় মাত্র চারটিতে নামিয়ে আনা হয়। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পরবর্তী সময়ে উড্ডয়ন ও অবতরণ—উভয় কার্যক্রমই স্থগিত করা হয়।
ফ্লাইট কার্যক্রম সীমিত হওয়ার পর অন্তত ১০টি ফ্লাইট সিসিলির বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ফ্লাইট পালেরমো, তিনটি ত্রাপানি এবং দুটি কমিসো বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে। ভোলোটিয়ার একটি ফ্লাইটও কমিসো থেকে পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়।
প্রথমে ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আগ্নেয়গিরির পরিস্থিতি ও ছাইয়ের বিস্তার পর্যালোচনা করে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানো হয়। পরবর্তী ঘোষণায় ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাতানিয়া বিমানবন্দরে সব আগমন ও বহির্গামী ফ্লাইট স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়।
আগ্নেয়গিরির ছাই সাধারণ ধোঁয়া বা মেঘের মতো নয়। এতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম শিলা, খনিজ পদার্থ এবং আগ্নেয় কাচের কণা থাকতে পারে। উড়োজাহাজ ঘন আগ্নেয় ছাইয়ের মধ্যে প্রবেশ করলে বিশেষ করে জেট ইঞ্জিনের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জেট ইঞ্জিনের ভেতরে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এসব সূক্ষ্ম কণা গলে গিয়ে ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশে জমতে পারে। এতে ইঞ্জিনের স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শক্তি কমে যাওয়া এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
শুধু ইঞ্জিন নয়, আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজের ককপিটের উইন্ডশিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত করে পাইলটের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজের বাইরের অংশ, বিভিন্ন সেন্সর এবং গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই কারণেই কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ছাই বিমানবন্দর বা উড়োজাহাজের সম্ভাব্য ফ্লাইটপথের দিকে ছড়িয়ে পড়লে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্রুত আকাশসীমা ও ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করে।
কাতানিয়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু ফ্লাইট বাতিল নয়, দীর্ঘ বিলম্ব এবং অন্য বিমানবন্দরে ফ্লাইট পাঠানোর ঘটনাও ঘটতে পারে। বাতাসের গতি ও দিক পরিবর্তনের সঙ্গে আগ্নেয় ছাইয়ের গতিপথও দ্রুত বদলে যেতে পারে। ফলে অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা কমে এলেও বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।
ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনার কাছাকাছি অবস্থান কাতানিয়া-ফন্টানারোসা বিমানবন্দরের। ফলে এটনায় বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত হলে বিমানবন্দরটির ফ্লাইট কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে।
সর্বশেষ ঘটনায় আগ্নেয় ছাই কাতানিয়ার দিকে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ওই এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টিও দেখা দেয়। ফলে বিমানবন্দরের পরিচালন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এ কারণে কাতানিয়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে মাউন্ট এটনার সক্রিয়তা, ছাইয়ের উচ্চতা, বাতাসের গতিপথ এবং সম্ভাব্য ফ্লাইটপথ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য পরিস্থিতি নিরাপদ বিবেচিত হলেই ধাপে ধাপে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়।
যাত্রীদের তাই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ এবং ফ্লাইটের সময় নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: কাতানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (SAC)
মন্তব্য করুন