সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লোডশেডিং চলছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি লোডশেডিংজনিত কোনো পরিস্থিতি নয়। বিমানবন্দরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে এবং স্বাভাবিক অপারেশন অব্যাহত রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দুটি পৃথক বিতরণ লাইন থেকে বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
কোনো কারণে একটি লাইনে বিদ্যুৎ না থাকলে অটোমেটিক ট্রান্সফার সুইচ (ATS)-এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক সেকেন্ডের মধ্যে পিডিবির বিকল্প লাইনের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ স্থাপিত হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পিডিবির উভয় লাইনে একই সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং গত কয়েক মাসে এমন পরিস্থিতি ঘটেনি।
রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কোনো প্রয়োজনে পিডিবির উভয় লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে বিমানবন্দরের নিজস্ব জেনারেটর ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়সীমা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১৬ সেকেন্ডের সীমার মধ্যেই রয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের রাডার, নেভিগেশনাল ইকুইপমেন্ট, VHF কমিউনিকেশন সিস্টেম, রানওয়ে লাইটিং সিস্টেম এবং ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেমসহ (FIDS) গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল যন্ত্রপাতির জন্য রয়েছে পৃথক ব্যাটারি ব্যাকআপ ও ইউপিএস ব্যবস্থা। ফলে মূল বিদ্যুৎ উৎস পরিবর্তনের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ব্যবস্থা সচল থাকে।
বিমানবন্দরের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ায় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে নতুন দুটি জেনারেটর স্থাপনের কাজ চলছে। এ কাজ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে পিডিবির লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। এমন কোনো সময়ের দৃশ্যকে লোডশেডিং হিসেবে ধরে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি নিয়ে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি না থাকে, সে জন্য প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যাকআপ ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত করাই শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তথা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মন্তব্য করুন