প্রকাশিত: 21 July 2026, 3:06:49 Pm
|অনলাইন সংস্করণ
উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩৫ জনের প্রাণহানির এক বছর পার হলেও দেশের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ কাটেনি। তদন্তে উঠে আসা একাধিক সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর আশপাশে প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনা এবং অবস্ট্যাকল লিমিটেশন সারফেস (ওএলএস) নীতিমালা লঙ্ঘন করে উঁচু ভবন নির্মাণ—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের দলিপাড়া, বাউনিয়া ও পাকুরিয়া এলাকায় ওএলএস সীমা লঙ্ঘনকারী ৬৪২টি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো অপসারণ বা ঝুঁকি নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ করা হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে সক্রিয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনা এবং বিমানবন্দরের চারপাশে উচ্চতার সীমা অতিক্রমকারী স্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ বিমানের ঘন ঘন উড্ডয়ন আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়া বা জরুরি পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা আরও জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, বেবিচকের ওএলএস নীতিমালায় বিমানবন্দরের চারপাশে ভবনের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের স্পষ্ট বিধান থাকলেও বাস্তবে তা সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে অনুসরণ হচ্ছে না।
এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ জনবহুল শহর থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ধীরে ধীরে বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। তাঁর মতে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অ্যানেক্স-১৪ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এমন এলাকা নির্বাচন করা উচিত যেখানে জনবসতি কম এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সীমিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এ নীতিমালার বাস্তবায়ন আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি উড্ডয়ন ও অবতরণ হয়। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার যাত্রী এ বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। এ কারণে আকাশপথের নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
‘লাগেজের জন্য যাত্রী নয়, যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করবে লাগেজ’: ই
1
আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হচ্ছে চট্টগ্রাম, ১৮ মাসের ফাস্ট-ট্র্যাক
2
শাহ মখদুম বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, বাড়ছ
3
বিমানের বহরে আসছে ২৫ নতুন বোয়িং, অর্ডারে ১৫ ড্রিমলাইনার ও ১০
4
শাহ আমানত বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ২০৭০ সালের মাস্টারপ্ল্যান,
5
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা ১৭ ধরন