বিমানে ভ্রমণের সময় টিকিট, বোর্ডিং পাস কিংবা লাগেজ ট্যাগে প্রায়ই তিন অক্ষরের কিছু ইংরেজি কোড দেখা যায়—যেমন DAC, CGP বা CXB। এগুলোই হলো আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA) নির্ধারিত বিমানবন্দরের বিশেষ পরিচিতি বা IATA Airport Code। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দরকে সহজে শনাক্ত করতে এই কোড ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের IATA কোড DAC। ঢাকার পুরোনো নাম Dacca থেকে এই কোডটি নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর টিকিট, লাগেজ, ফ্লাইট সূচি ও আন্তর্জাতিক রিজার্ভেশন ব্যবস্থায় এই কোড ব্যবহৃত হয়।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোড CGP এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোড ZYL। পর্যটননগরী কক্সবাজার বিমানবন্দরের কোড CXB, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত।
এ ছাড়া দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে যশোর (JSR), সৈয়দপুর (SPD), রাজশাহী (RJH), বরিশাল (BZL), কুমিল্লা (CLA) এবং ঈশ্বরদী (IRD)। এসব কোড আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস, ট্রাভেল এজেন্সি এবং অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, IATA কোড শুধু একটি সংক্ষিপ্ত নাম নয়; এটি বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। টিকিট বুকিং, লাগেজ পরিবহন, কার্গো অপারেশন, ফ্লাইট পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদানে এই কোডের মাধ্যমে ভুলের সম্ভাবনা কমে এবং পরিচালন কার্যক্রম আরও দ্রুত ও নির্ভুল হয়।
বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এসব IATA কোডের গুরুত্বও বাড়ছে। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং কার্গো পরিবহন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিমানবন্দরগুলোর এই তিন অক্ষরের পরিচিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।