এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অপারেশন সচল রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) গ্রেড-১০ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা লাঞ্চ ভাতা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি বেবিচক কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া এক আবেদনে কর্মকর্তারা এ দাবি তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, একসময় কর্মকর্তাদের জন্য সাবসিডাইজড ক্যান্টিন বা লাঞ্চ ভাতার ব্যবস্থা থাকলেও ২০১৭ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সুবিধাটি পুনর্বহাল হয়নি।
কর্মকর্তারা বলছেন, বিমানবন্দরের ২৪ ঘণ্টার operational environment, নির্ধারিত সময়ের বাইরে দায়িত্ব পালন এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাস্তবতা বিবেচনায় লাঞ্চ ভাতা পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।
আবেদনে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, বেবিচকের দায়িত্ব শুধু প্রচলিত অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বিমানবন্দরে flight operation, aviation security, passenger service, cargo handling, emergency response এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ operational activity দিন-রাত চলমান থাকে।
এর সঙ্গে VVIP ও VIP movement, বিশেষ পরিস্থিতি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন inspection ও audit-এর সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরেও দায়িত্ব পালন করতে হয়।
সরকারি ছুটির দিন কিংবা রাতের শিফটেও অনেক কর্মকর্তাকে operational duty করতে হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য, এ ধরনের কর্মপরিবেশ বিবেচনায় বিমানবন্দরের দায়িত্বকে শুধু প্রচলিত office-based duty-এর সঙ্গে তুলনা করলে বাস্তব operational workload পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।
বিমানবন্দরের airside এবং বিভিন্ন restricted area নিরাপত্তার কারণে নিয়ন্ত্রিত। দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা একবার নির্দিষ্ট operational area-তে প্রবেশ করলে প্রয়োজনমতো বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করা সবসময় সহজ হয় না বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।
বিশেষ করে রাতের শিফটে খাবারের বিকল্প আরও সীমিত হয়ে পড়ে।
তাদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় বিমানবন্দরের ভেতরে পাওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়, যেখানে তুলনামূলক বেশি ব্যয় হতে পারে।
এ কারণে তারা লাঞ্চ ভাতাকে শুধু আর্থিক সুবিধা হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘ সময় operational duty পালনের একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন।
কর্মকর্তাদের আবেদনে বলা হয়েছে, আগে বেবিচকের কর্মকর্তাদের জন্য subsidized canteen অথবা lunch allowance-এর ব্যবস্থা ছিল। ২০১৭ সালে গ্রেড-১০ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায় বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
তাদের দাবি, প্রায় এক দশক ধরে এ সুবিধা না থাকলেও বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের operational responsibility বরং বেড়েছে।
তাই আগের সুবিধা পুনর্বহালের বিষয়টি বর্তমান কর্মপরিবেশ ও দায়িত্বের আলোকে নতুন করে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
লাঞ্চ ভাতা পুনর্বহালের দাবির পেছনে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন কর্মকর্তারা।
তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য lunch allowance অথবা সমজাতীয় খাদ্য সুবিধা রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে দ্রব্যমূল্য বিবেচনায় এ ধরনের ভাতার পরিমাণও সমন্বয় করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কী হারে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সেটির পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক তথ্য আবেদনের বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বেবিচকের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, একই ধরনের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও operational responsibility থাকার পরও খাদ্যসংক্রান্ত সহায়তা না থাকায় তাদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পরিধিও বেড়েছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, এভিয়েশন কার্যক্রম যেভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব ক্ষেত্রে জনবল বাড়েনি। ফলে বিদ্যমান কর্মকর্তাদের অনেককেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ২৪ ঘণ্টা সচল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটের নিরাপদ আগমন ও প্রস্থান নিশ্চিত করার সঙ্গে শুধু একটি বিভাগ যুক্ত থাকে না।
Air Traffic Management, aerodrome operations, aviation security, fire and rescue, engineering, communication-navigation systems এবং প্রশাসনিক সমন্বয়সহ বিভিন্ন ইউনিটকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়।
এ কারণে একটি বিমানবন্দর সচল রাখা একটি continuous operation, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর shift ও extended-hour duty প্রয়োজন হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক aviation security এবং safety requirement অনুসরণ করতে হয়।
এ ধরনের audit, inspection বা assessment-এর আগে প্রয়োজনীয় documentation, operational readiness, security procedure এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতির কারণে নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি বাড়তি কাজের প্রয়োজন হতে পারে।
কর্মকর্তাদের দাবি, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রচেষ্টার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিক ভূমিকা রয়েছে।
তাই infrastructure ও technology উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মীদের working environment এবং job satisfaction-এর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
আবেদনকারী কর্মকর্তাদের মতে, লাঞ্চ ভাতা পুনর্বহাল হলে সেটি শুধু দৈনন্দিন খাবারের খরচে সহায়তা করবে না; operational duty পালনকারীদের জন্য একটি প্রণোদনাও হতে পারে।
তাদের দাবি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও shift duty-এর বাস্তবতায় এ ধরনের সুবিধা কর্মসন্তুষ্টি ও মনোবল বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
তবে লাঞ্চ ভাতা চালু হলে সরাসরি যাত্রীসেবা বা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কতটা উন্নত হবে—এটি আলাদাভাবে পরিমাপযোগ্য বিষয়। ফলে এটিকে নিশ্চিত ফলাফল না বলে কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
একটি বিমানবন্দরের সক্ষমতা সাধারণত runway, terminal, radar, security equipment বা অন্যান্য অবকাঠামোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়। কিন্তু এর পেছনে থাকা মানবসম্পদও airport operation-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে ২৪ ঘণ্টার operation-এ পর্যাপ্ত manpower, shift management, training, rest period এবং কর্মপরিবেশের মতো বিষয়গুলো operational continuity বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
এ কারণে কর্মীদের জন্য কোনো আর্থিক বা খাদ্য সুবিধা চালু করা হবে কি না—সেটি শেষ পর্যন্ত বেবিচকের প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতি, বিদ্যমান বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়।
গ্রেড-১০ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা তাদের আবেদনে লাঞ্চ ভাতা পুনর্বহালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে বেবিচক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, ২৪ ঘণ্টার বিমানবন্দর কার্যক্রম, shift ও extended-hour duty, restricted working environment এবং বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে।
তবে বেবিচক কর্তৃপক্ষ আবেদনটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না কিংবা ভাতা পুনর্বহালের জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফলে আপাতত বিষয়টি গ্রেড-১০ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের উত্থাপিত দাবি ও আবেদন পর্যায়েই রয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরই লাঞ্চ ভাতা পুনর্বহাল হবে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সূত্র: বেবিচক
মন্তব্য করুন