এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারি উড়োজাহাজ ‘উইং অব জিওন’ (Wing of Zion) নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (JFK) এড়িয়ে যেতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Ynet-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কায় বিকল্প হিসেবে নিউজার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথবা কাছাকাছি কোনো সামরিক বিমানঘাঁটি বিবেচনা করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্বেগের একটি কারণ নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ। তবে JFK-তে উড়োজাহাজটির অবস্থান বন্ধ করতে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশ দিয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও পরিচালনগত উদ্বেগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর সফরের সময় ‘উইং অব জিওন’কে JFK-তে না রেখে নিউজার্সির কোনো সামরিক বিমানঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাখার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।
এ ধরনের বিকল্প ব্যবস্থায় সরকারি উড়োজাহাজটি নেতানিয়াহুর সফরজুড়ে নির্ধারিত স্থানে পার্ক করে রাখা সম্ভব হবে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন।
রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সরকারি উড়োজাহাজ পরিচালনায় সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। বিমানবন্দরে পার্কিং অবস্থান, নিরাপত্তা বেষ্টনী, স্থলপথে যাতায়াত এবং মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়—সবকিছুই সফরের পরিকল্পনার অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর অবস্থানও তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন এবং নিউইয়র্কে রাত কাটানোর পরিকল্পনা নেই।
সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তায় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বাড়তি সম্পৃক্ততা থাকার কথা জানিয়েছে Ynet।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্ক সিটির আইনি পর্যালোচনার পর মামদানি স্বীকার করেন, শহর কর্তৃপক্ষের স্বাধীনভাবে ওই পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারকে পরোয়ানাটি কার্যকর করার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহুও মামদানির বক্তব্যের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন এবং জাতিসংঘে নিজের বক্তব্যে তাঁর সমালোচনার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
নেতানিয়াহু ও ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—কোনোটিই ICC প্রতিষ্ঠাকারী রোম সংবিধির সদস্য নয়।
কোনো দেশের সরকারপ্রধানের উড়োজাহাজ কোন বিমানবন্দরে অবতরণ করবে, তা শুধু রানওয়ে বা বিমানবন্দরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। নিরাপত্তা, বিমান পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়, স্থলপথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভের মতো বিষয়ও পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিউজার্সিতে অবস্থিত হলেও নিউইয়র্ক মহানগর অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর। ফলে JFK ব্যবহার না করেও সেখান থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
তবে নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজের বিমানবন্দর পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া একটি অপারেশনাল ও নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় নিউইয়র্কের আকাশ ও স্থল নিরাপত্তায় এমনিতেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য বিক্ষোভের কারণে এবার তাঁর সরকারি উড়োজাহাজের অবতরণ, পার্কিং এবং স্থলপথে যাতায়াত পরিকল্পনাও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: Ynet (Yedioth Ahronoth), Reuters
মন্তব্য করুন