এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট উপকরণের মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের এই প্রকল্পে মোট ১৪ হাজার ৮২৪টি বিল অব কোয়ান্টিটি (BOQ) আইটেম রয়েছে। ফলে একটি মাত্র আইটেমের মূল্য বিচ্ছিন্নভাবে বিশ্লেষণ করে পুরো প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথাযথ নয় বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
বেবিচকের দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক নির্মাণ চুক্তির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ধরনের প্রকল্পে বিভিন্ন কাজ ও উপকরণের মূল্য, পরিমাণ এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত শর্ত একটি সমন্বিত চুক্তিকাঠামোর অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট আইটেমের মূল্যকে পুরো প্রকল্পের ব্যয়ের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে উপস্থাপন করলে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে মোট ১৪ হাজার ৮২৪টি BOQ আইটেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব আইটেমের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজ, উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে একেকটি আইটেমের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু উপকরণের বাজারদর নয়, বরং চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত কাজের পরিধি, কারিগরি শর্ত এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।
এ কারণে একটি নির্দিষ্ট আইটেমের দর মূল্যায়নের সময় সংশ্লিষ্ট BOQ-এর বিবরণ, পরিমাপের একক, কাজের পরিধি এবং চুক্তির শর্ত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিল অব কোয়ান্টিটি (Bill of Quantities-BOQ) হলো নির্মাণ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও কারিগরি নথি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজের বিবরণ, পরিমাণ, একক দর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সাধারণভাবে একটি BOQ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন, নির্মাণকাজের পরিমাণ নির্ধারণ এবং চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে BOQ-এর কোনো আইটেমের দর যথাযথ কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট কাজের বিস্তারিত বিবরণ, বাজারদর, কারিগরি বৈশিষ্ট্য এবং চুক্তির শর্ত বিবেচনা করতে হয়। শুধু প্রকল্পে অনেক আইটেম থাকার কারণে কোনো নির্দিষ্ট আইটেমের মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যৌক্তিক প্রমাণিত হয় না।
বেবিচক জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে নির্ধারিত একক দর ও শর্ত অনুযায়ী করা হয়েছে।
সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ চুক্তিকাঠামো বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো একটি আইটেমের মূল্যকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করলে সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয়ের যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব নাও হতে পারে।
তবে চুক্তিতে নির্ধারিত দর অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা এবং সেই দর বাজারদর বা প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়ার বিচারে যৌক্তিক হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। কোনো নির্দিষ্ট আইটেমের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র, দর নির্ধারণের ভিত্তি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর একটি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দর পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয়সংক্রান্ত তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জনসাধারণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট আইটেমের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার কারিগরি বিবরণ, চুক্তিভিত্তিক দর এবং ব্যয় নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
বেবিচক তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট আইটেমের মূল্যকে কেন্দ্র করে পুরো প্রকল্প সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সামগ্রিক চুক্তি ও বাস্তবায়ন কাঠামো বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সরবরাহ করা ব্যাখ্যার ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদন।
মন্তব্য করুন