এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর ফলে ছুটিতে বাংলাদেশে আসা অনেক প্রবাসী তাদের কর্মস্থল, ব্যবসা ও পরিবারের কাছে UAE-তে ফিরতে পারছেন না। পরিস্থিতি সমাধানে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে ভিসা বাতিলের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও গণমাধ্যমের তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। গত জুলাইয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ৬২৬ বাংলাদেশির ভিসা ‘auto-cancellation’-এর তথ্য পাওয়া গেছে। সেপ্টেম্বরের পরবর্তী প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা চার হাজারের বেশি এবং কোথাও প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ৪ হাজার ৮০০ সংখ্যাটিকে সর্বশেষ চূড়ান্ত সরকারি হিসাব হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন না করাই যথাযথ।
ভুক্তভোগীদের অনেকে জানিয়েছেন, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ই-মেইল বা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে ভিসা বাতিলের তথ্য পেয়েছেন। কারও ক্ষেত্রে UAE-তে থাকা sponsor-ও notification পেয়েছেন। ২৭ বছর UAE-তে বসবাস করা আবুল কালাম আজাদ ৭ এপ্রিল দেশে ফেরার পর ২৪ জুলাই ই-মেইলে ভিসা বাতিলের খবর পান; তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ৩৫০ ভুক্তভোগী জাতীয় প্রেসক্লাবে কর্মসূচি পালন করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। তাদের অনেকের চাকরি, ব্যবসা ও পরিবারের সদস্য UAE-তে থাকায় দেশে আটকে পড়ার ফলে আর্থিক ও পারিবারিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের তথ্য জমা দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশও প্রকাশ করেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের নির্ধারিত মাধ্যমে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রবাসী কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সব ভিসা একই কারণে বাতিল হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। জুলাইয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এটি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ঘটছে না এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকও এমন সমস্যার মুখে পড়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে জাল নথি, চাকরি হারানো বা ভিসা নবায়নসংক্রান্ত সমস্যার কথাও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিংবা অন্য কোনো একটি বিষয়কেই প্রায় ৪ হাজার ৮০০ ভিসা বাতিলের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের জন্য UAE অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও বিমানযাত্রার গন্তব্য। ফলে দেশে আটকে থাকা প্রবাসীদের ফেরার সুযোগ তৈরি হলে সেটি শুধু তাদের কর্মসংস্থান নয়, বাংলাদেশ–UAE যাত্রী চলাচলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট UAE কর্তৃপক্ষের visa status এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করা নিরাপদ।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
মন্তব্য করুন