aviation
প্রকাশিত: 5 October 2026, 2:26:08 Pm
অনলাইন সংস্করণ

বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ীকরণে ১৮ অক্টোবর সভা, চার বছরের অপেক্ষা শেষ হওয়ার প্রত্যাশা

এভিয়েশন বার্তা বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে আগামী ১৮ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশ আশা করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এই সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিতব্য সভাটি অনেকটা আনুষ্ঠানিক বা Formal Meeting হওয়ার কথা। তবে অতীতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্নমত বা নতুন পর্যবেক্ষণের কারণে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এবারও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।

বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করেন, বিষয়টি যাতে নতুন কোনো প্রশাসনিক জটিলতায় না পড়ে, সেজন্য সংস্থাটির প্রশাসন বিভাগের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিশ্চিত করা উচিত।

চার বছরেও স্থায়ীকরণ না হওয়ায় হতাশা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ চাকরির স্থায়িত্ব এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে।

তাঁদের ভাষ্য, প্রায় চার বছর ধরে চাকরি করলেও স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় অনেকেই একই বেতনে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বেতন ও চাকরিসংক্রান্ত প্রত্যাশিত সুবিধায় অগ্রগতি না থাকায় বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবার পরিচালনা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করার পরও যখন চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন একই বেতনে পরিবার পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, বিষয়টি শুধু বেতন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অস্থায়ী চাকরির কারণে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও Job Security নিয়েও তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে।

১৮ অক্টোবরের সভার দিকে তাকিয়ে সবাই

এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৮ অক্টোবরের সভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সভায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হবে এবং চাকরি স্থায়ীকরণের দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়াটি আর নতুন কোনো জটিলতায় পড়বে না।

তবে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই স্থায়ীকরণের বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পাচ্ছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভায় আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি স্পষ্ট হবে।

প্রশাসন বিভাগের আরও সক্রিয় ভূমিকা চান কর্মকর্তারা

বেবিচকের অনেক কর্মকর্তা মনে করেন, ১৮ অক্টোবরের সভাকে সামনে রেখে সংস্থাটির প্রশাসন বিভাগের প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ব্যাখ্যা এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলো আগেই যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

তাঁদের প্রত্যাশা, বেবিচকের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে, যাতে সভায় কোনো প্রশাসনিক অস্পষ্টতা বা নতুন জটিলতা তৈরি না হয়।

কর্মকর্তাদের একটি অংশের ভাষ্য, কোনো পর্যায় থেকে প্রশ্ন বা ভিন্নমত এলে তার যথাযথ উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতিও আগে থেকেই থাকা প্রয়োজন। কারণ নতুন করে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীকরণের অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এর আগেও দাবিতে মানববন্ধন

চাকরি স্থায়ীকরণ ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের দাবিতে এর আগে বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধনও করেছেন। দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও স্থায়ীকরণ না হওয়া এবং প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টি তখনও সামনে আসে।

তাঁদের দাবি ছিল, দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

এখন ১৮ অক্টোবরের সভার তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। একই সঙ্গে শেষ মুহূর্তে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয় কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হবে—এমন প্রত্যাশা

বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির একটি ইতিবাচক সমাধান আসবে।

তাঁদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের জনবলকে দীর্ঘদিন চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দক্ষতা ও মনোবল ধরে রাখা কঠিন। চাকরির নিশ্চয়তা কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মপরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তাই ১৮ অক্টোবরের সভাকে কেবল একটি প্রশাসনিক বৈঠক হিসেবে নয়, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

এখন সবার নজর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই সভার দিকে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা—চার বছরের অপেক্ষার পর এবার স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়াটি আর কোনো নতুন জটিলতায় না পড়ে দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে।

সূত্র: বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাপ্ত তথ্য

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদেশি স্টেশনে অনিয়ম-সমন্বয়হীনতার অভিযোগ, শৃঙ্খলা ফেরাতে নতু

1

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদ

2

বাংলাদেশে সরবরাহ করা জেট ফুয়েলে ভেজালের প্রমাণ মিলল

3

কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ শেষের পথে, অক্টোবরে উদ্বোধন

4

মাউন্ট এটনার ছাইয়ে টানা পাঁচ দিন বন্ধ ইতালির কাতানিয়া বিমানব

5

ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্

6

শাহজালালের এয়ারফ্রেইটে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান, দুই চালানে

7

বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি কবে আবার চালু হবে?

8

এভিয়েশন নিরাপত্তায় দক্ষতা বাড়াতে শাহজালালে ডিএফটি প্রশিক্ষণ

9

শাহজালালে বারবার অগ্নিকাণ্ড, তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়নে ধীরগ

10

বিমানের প্রকৌশলীদের লাইসেন্স ভাতা ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার করা

11

রানওয়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে উড়ল ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭

12

নিরাপদ বিমান চলাচলে দক্ষ জনবল গড়তে বেবিচকের এটিসি বেসিক কোর্

13

শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে বসছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেট

14

জুরিখে অ্যালকোহল পরীক্ষায় ব্যর্থ, এয়ার ইন্ডিয়ার ফার্স্ট অফিস

15

নিরাপত্তায় বদলে যাচ্ছে শাহজালাল, নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

16

নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত

17

বিদেশি এয়ারলাইনসের আধিপত্যের নেপথ্যে দেশীয় সংস্থার দুর্বলতা:

18

পর্যটন খাত বদলে দিতে ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা, চিহ্নিত ১,৪৯৮ পর

19

বিমানবন্দরে অগ্নি নিরাপত্তা জোরদারে বেবিচকের ১৫ কর্মীর বিশেষ

20