এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাসকাটফেরত এক যাত্রীর ব্যাগ ও প্যান্টের পকেট থেকে মোট ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। উদ্ধার করা স্বর্ণের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাসকাট থেকে আসা SalamAir-এর OV 0246 ফ্লাইটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ফ্লাইটটির যাত্রী Mohammad Hasan Murad বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের টিম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা তার ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করেন।
তল্লাশির একপর্যায়ে ওই যাত্রীর ব্যাগের ভেতরে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পেস্ট আকৃতির স্বর্ণসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়।
পরে স্বর্ণ কারিগরের মাধ্যমে সেটি পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্রক্রিয়াকরণের পর পেস্ট থেকে ৪২৫ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেট স্বর্ণপিণ্ড পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে পাওয়া পেস্টের পুরো ওজনকে স্বর্ণ হিসেবে গণনা না করে প্রক্রিয়াকরণের পর পাওয়া প্রকৃত স্বর্ণের ওজন হিসাব করা হয়েছে।
শুধু ব্যাগেই নয়, দেহ তল্লাশির সময় ওই যাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকেও ১০৬ গ্রাম ওজনের ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
ব্যাগের পেস্ট থেকে পাওয়া ৪২৫ গ্রাম স্বর্ণ এবং পকেটে থাকা ১০৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার মিলিয়ে মোট উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন দাঁড়ায় ৫৩১ গ্রাম।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে এর শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, বিশেষ কৌশলে স্বর্ণ বহনের ঘটনায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে।
ফলে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে এটিকে দায়ের হওয়া মামলা হিসেবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়।
একইভাবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত যাত্রীকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করারও সুযোগ নেই।
ঘটনাটিতে শুধু স্বর্ণ উদ্ধারের মধ্যেই অনুসন্ধান সীমাবদ্ধ থাকছে না। উদ্ধার করা স্বর্ণ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, বাংলাদেশে কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক এ ঘটনায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রীকে শনাক্ত এবং তল্লাশির মাধ্যমে ব্যাগে বিশেষ কৌশলে রাখা স্বর্ণসদৃশ পেস্টের পাশাপাশি প্যান্টের পকেট থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধারের বিষয়টি বিমানবন্দরে যাত্রী ও ব্যাগেজ—দুই পর্যায়ের নজরদারির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)
মন্তব্য করুন