হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স (O&M) কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে চুক্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ জাপানি কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব (Proposal) জমা দেবে।
বেবিচক সূত্র জানায়, জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব পাওয়ার পর তা কারিগরি (Technical) ও আর্থিক (Financial) মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়ন শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চুক্তির চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার উদ্যোগ দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যাত্রীসেবা, দক্ষ অপারেশন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর একটি। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এই টার্মিনাল চালু হলে দেশের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাবে পরিণত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর এই উদ্যোগ বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি পরিচালনা চুক্তি নয়, বরং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মন্তব্য করুন