এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ইতালির সিসিলি দ্বীপে মাউন্ট এটনা থেকে অব্যাহত আগ্নেয় ছাই নির্গমনের কারণে টানা পঞ্চম দিনের মতো বন্ধ রয়েছে দ্বীপটির সবচেয়ে বড় কাতানিয়া বিমানবন্দর। ব্যস্ত পর্যটন মৌসুমে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। বাতিল হয়েছে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট, আর অনেক ফ্লাইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আশপাশের বিকল্প বিমানবন্দরে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতানিয়া বিমানবন্দর শনিবার ভোর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ইতালির গুরুত্বপূর্ণ গ্রীষ্মকালীন ছুটি ‘ফেরাগোস্তো’র সময় এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা এসএসি জানিয়েছে, ৬ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত কাতানিয়ায় আসার জন্য নির্ধারিত প্রায় দুই হাজার ফ্লাইটের ৩৬ শতাংশ বাতিল হয়েছে।
একই সময়ে ৬০০টির বেশি ফ্লাইট সিসিলির পালেরমো, ত্রাপানি ও কোমিসো এবং ক্যালাব্রিয়ার লামেজিয়া তেরমে বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফলে শুধু কাতানিয়া নয়, আশপাশের বিমানবন্দর ও স্থল পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ তৈরি হয়েছে।
কাতানিয়া বিমানবন্দর থেকে মাউন্ট এটনার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাইয়ের কারণে আগেও বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিকস অ্যান্ড ভলকানোলজির এটনা অবজারভেটরির গবেষক বরিস বেনকে জানিয়েছেন, আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আগ্নেয় ছাই সাধারণ মেঘের মতো নয়। এর সূক্ষ্ম কণা উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে প্রবেশ করলে ইঞ্জিনের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি দৃশ্যমানতা ও উড়োজাহাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণেই আগ্নেয় ছাইয়ের উপস্থিতিতে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
ইউরোপের বৃহত্তম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এটনার বর্তমান কার্যক্রমকে অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০২ সালের পর কাতানিয়া বিমানবন্দরে আগ্নেয়গিরির কারণে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী জরুরি পরিস্থিতি বলে জানা গেছে।
উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত বাতাসের কারণে সামান্য পরিমাণ আগ্নেয় ছাই ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে মাল্টা এবং উত্তর আফ্রিকার কিছু এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
শত শত ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার প্রভাব পড়েছে সিসিলির পরিবহন ব্যবস্থাতেও। বিকল্প বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের ট্যাক্সি, ভাড়া গাড়ি ও ট্রেনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্সি ও গাড়ি ভাড়ার মূল্য বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ নিয়ে ইতালির প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ভোক্তা সংগঠন কোডাকনস।
যাত্রীদের চাপ কমাতে পালেরমো-মেসিনা-কাতানিয়া রুটে অতিরিক্ত ছয়টি ট্রেন চালু করেছে ইতালির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ট্রেনইতালিয়া।
মাউন্ট এটনা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হওয়ায় কাতানিয়া বিমানবন্দরের জন্য আগ্নেয় ছাইজনিত ঝুঁকি নতুন নয়। তবে এবারের দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি বড় ধরনের বিঘ্নের সময় বিমান, বিমানবন্দর ও স্থল পরিবহনের মধ্যে আরও সমন্বিত বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
এ কারণে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রী ও বিমান চলাচলের ওপর প্রভাব কমাতে একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ইতালির ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন।
কাতানিয়া বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলেও আগ্নেয় ছাইয়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই এ সময়ে সিসিলিগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
মন্তব্য করুন