আকাশে দীর্ঘদিন যাত্রী পরিবহনের পর একটি বোয়িং ৭৪৭-এর শেষ ঠিকানা হয়েছে সমুদ্রের তলদেশে। তবে পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ হিসেবে নয়—বাহরাইন সেটিকে রূপ দিয়েছে পর্যটকদের জন্য অভিনব ডাইভিং আকর্ষণ ও কৃত্রিম সামুদ্রিক আবাসস্থলে।
২০১৯ সালের জুনে প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ অবসরপ্রাপ্ত বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজটিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাহরাইনের উত্তরাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২২ মিটার গভীরে সেটি স্থাপন করা হয়। বিশাল উড়োজাহাজটি এখন Dive Bahrain নামের প্রায় এক লাখ বর্গমিটার আয়তনের আন্ডারওয়াটার পার্কের প্রধান আকর্ষণ।
একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ডাইভ বাহরাইন চালু হয়। ডুবুরিরা এখন পানির নিচে গিয়ে কাছ থেকে বিশাল বোয়িং ৭৪৭টি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
তবে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করা নয়। উড়োজাহাজটির বিশাল কাঠামো ও বিভিন্ন অংশ সামুদ্রিক জীবের জন্য নতুন আশ্রয় ও বসতি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে। সময়ের সঙ্গে এর বিভিন্ন পৃষ্ঠে সামুদ্রিক জীব জন্মানো এবং মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির আশ্রয়স্থল তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
পার্কটিকে আরও বড় করার পরিকল্পনায় কৃত্রিম প্রবালপ্রাচীর, বিভিন্ন ভাস্কর্য এবং বাহরাইনের ঐতিহ্যবাহী মুক্তা ব্যবসায়ীর বাড়ির প্রতিরূপ যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির ঐতিহাসিক মুক্তা আহরণ ও সমুদ্রকেন্দ্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ডাইভিং পর্যটনের সংযোগ ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উপযুক্ত স্থান, নকশা ও উপকরণ ব্যবহার করা হলে কৃত্রিম রিফ মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এমন স্থাপনা কতটা কার্যকর সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে পারে, তা নির্ভর করে পরিবেশ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর।
বাহরাইন কর্তৃপক্ষ ডাইভ বাহরাইনকে পর্যটনের পাশাপাশি সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ শিক্ষা এবং সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করতে চায়।
একসময় যে বোয়িং ৭৪৭ হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়েছে, সেটিই এখন সমুদ্রের তলদেশে পেয়েছে নতুন জীবন। উড়োজাহাজটির দ্বিতীয় অধ্যায় এখন আকাশে নয়—মাছ, সামুদ্রিক জীব আর ডুবুরিদের সঙ্গে পানির নিচে।
মন্তব্য করুন