দেশের পর্যটন খাতকে আরও পরিকল্পিত, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় একগুচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন জাতীয় পর্যটন নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে ট্যুর গাইড নিবন্ধন, কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম, পর্যটনকেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর সেবার মান উন্নয়নে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১৮০তম দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা-২০২৬-এর খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতে দক্ষ ও নিবন্ধিত জনবল তৈরির লক্ষ্যে অনলাইন ট্যুর গাইড নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ট্যুর গাইডদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সঠিক তথ্য প্রদান, নিরাপত্তা ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এসব কার্যক্রম গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকার কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম ও কৃষিভিত্তিক পর্যটন বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নতুন গন্তব্য গড়ে তোলা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
পর্যটন মৌসুম ও ছুটির সময় পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় ১৫৫ জন স্বেচ্ছাসেবক পর্যটকদের সহায়তা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
দেশীয় সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি তুলে ধরে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্যাকেজ ট্যুর আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় পর্যটনে মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
পর্যটন আবাসনের মানোন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের নিবন্ধিত তিন থেকে পাঁচ তারকামানের ৫২টি হোটেলে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় Reduce, Reuse এবং Recycle—‘3R’ মডেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিদর্শন এবং সিটিজেন চার্টার প্রদর্শনের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমে পর্যটন নীতিমালা আধুনিকায়ন, দক্ষ ট্যুর গাইড তৈরি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, নতুন পর্যটন গন্তব্যের বিকাশ, পর্যটনকেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর সেবার মানোন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন খাতকে আরও সংগঠিত ও পর্যটকবান্ধব করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন