দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর জার্মানি ও সিরিয়ার মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকা এই রুটে ২৯ জুলাই প্রথম ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে দুই দেশের বিমান যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
জার্মান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোলনভিত্তিক বিমান সংস্থা LEAV Aviation মঙ্গলবার একটি Airbus A320-200 উড়োজাহাজ দিয়ে ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দর থেকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে প্রথম সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই জার্মানি ও সিরিয়ার মধ্যে প্রথম নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট।
ফ্লাইট চালুর আগে গত ১৬ জুলাই দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বিমান পরিবহন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মাধ্যমে রুট পরিচালনার অধিকার, সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা, অপারেটিং লাইসেন্স, নিরাপত্তা মান এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে LEAV Aviation প্রায় ১৮০ আসনবিশিষ্ট Airbus A320-200 উড়োজাহাজ দিয়ে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এই সেবা মূলত জার্মানিতে বসবাসরত সিরীয় প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ করবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সফর, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও এ রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও অনুমোদন সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি বিমান সংস্থা এই রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে পারে।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর নিরাপত্তাজনিত কারণে জার্মানি দেশটিতে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মূল্যায়নের পর নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরুদ্ধার শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, বরং জার্মানি ও সিরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলতি বছরের মার্চে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে যে কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছিলেন, এই ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়াকে তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন