হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে বিনামূল্যের শাটল বাস সার্ভিস। বিমানবন্দর থেকে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন পয়েন্টে যাত্রী ও তাদের লাগেজ পৌঁছে দিতে গত ৮ জুলাই ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা চালু করা হয়।
বিশেষ করে বিদেশফেরত প্রবাসী, পর্যটক, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রী এবং ভারী লাগেজ নিয়ে চলাচলকারীদের জন্য এই সেবা বিমানবন্দর থেকে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি সুবিধাজনক সংযোগ তৈরি করেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শাটল বাসগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আশপাশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করছে—
এর ফলে বিমান থেকে নেমে ট্রেনে যাত্রা করতে ইচ্ছুক যাত্রী বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যেতে পারবেন। একইভাবে বাস বা অন্য গণপরিবহনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা কিংবা দেশের অন্য গন্তব্যে যেতে চাইলে নির্ধারিত সংযোগ পয়েন্ট পর্যন্ত শাটল ব্যবহার করা যাবে।
বিপরীত দিক থেকেও নির্ধারিত পয়েন্ট থেকে বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের জন্য এই সেবা কার্যকর সংযোগ হিসেবে কাজ করছে।
বিমানযাত্রীদের পরিবহনের ক্ষেত্রে সাধারণ শহুরে বাসের তুলনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হচ্ছে লাগেজ ব্যবস্থাপনা। শাহজালালের ফ্রি শাটল বাসে যাত্রীর সঙ্গে থাকা লাগেজ পরিবহনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নিজস্ব তথ্যানুযায়ী, বাসগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এতে লাগেজ রাখার সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিনামূল্যের Wi-Fi সুবিধাও রয়েছে।
প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধার বিষয়টিও বাসের নকশায় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তবে বাসের আসনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তথ্য পাওয়া গেলেও বিমানবন্দরের প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য তথ্যে নির্দিষ্টভাবে ৩৮ আসনের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। তাই আসনসংখ্যার পরিবর্তে নিশ্চিত যাত্রীসুবিধাগুলোকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা অনেক যাত্রী বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর বাস, ট্রেন বা অন্য গণপরিবহনে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যান। তাদের অনেকের সঙ্গেই থাকে একাধিক ব্যাগ বা ভারী লাগেজ।
এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দর টার্মিনাল থেকে রেলস্টেশন বা নিকটবর্তী গণপরিবহন পয়েন্ট পর্যন্ত যাওয়া অনেক সময় ঝামেলার হতে পারে। ফ্রি শাটল সার্ভিস এই ‘last-mile connectivity’ সমস্যার একটি অংশ কমাতে পারে।
তবে এটি ঢাকা শহরের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী সাধারণ বাস সার্ভিস নয়। মূলত বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের নির্ধারিত পরিবহন পয়েন্টের মধ্যে যাত্রী সংযোগ সহজ করাই এর উদ্দেশ্য।
শাটল সার্ভিসের আরেকটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো বিমানবন্দর এলাকায় স্বল্প দূরত্বের ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো।
একটি শাটল বাসে একসঙ্গে একাধিক যাত্রী ও তাদের লাগেজ পরিবহন করা সম্ভব হওয়ায় টার্মিনালের সামনে pick-up ও drop-off-এর জন্য পৃথক গাড়ির প্রয়োজন কমতে পারে। সেবাটি পর্যাপ্ত ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিচালিত হলে বিমানবন্দর এলাকার যানজট ব্যবস্থাপনাতেও সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ থাকায় air-to-rail connectivity আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রশাসন শাখার তত্ত্বাবধানে ফ্রি শাটল বাস সার্ভিসটি পরিচালিত হচ্ছে। বাস চলাচল, যাত্রী ওঠানামা এবং সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান শুধু টার্মিনালের ভেতরের check-in, immigration, baggage delivery বা security service-এর ওপর নির্ভর করে না। বিমানবন্দরে পৌঁছানো এবং বিমান থেকে নামার পর সহজে পরবর্তী পরিবহনে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থাও সামগ্রিক passenger experience-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সে বিবেচনায় শাহজালালের ফ্রি শাটল বাস সেবা একটি ছোট কিন্তু ব্যবহারিক সংযোজন। ভবিষ্যতে যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা, চলাচলের frequency, নির্দিষ্ট timetable এবং route information আরও সহজে দৃশ্যমান করা গেলে যাত্রীদের জন্য সেবাটি আরও কার্যকর হতে পারে।
শাটল সার্ভিসটি বিনামূল্যে হলেও যাত্রীদের নির্ধারিত pick-up ও drop-off point এবং সর্বশেষ operating schedule বিমানবন্দরে পৌঁছে নিশ্চিত করা ভালো। কারণ বিমানবন্দরের operational প্রয়োজন, যানজট বা অন্যান্য কারণে বাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।
বিশেষ করে ট্রেন বা পরবর্তী বাস ধরার নির্দিষ্ট সময় থাকলে শাটলের ওপর নির্ভর করে খুব কম connection time রাখা ঠিক হবে না। পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখলে বিমানবন্দর থেকে পরবর্তী যাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসংখ্যা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের airport connectivity service আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিনামূল্যে যাত্রী ও লাগেজ পরিবহনের এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে সচল রাখা গেলে বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক সেবা হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
মন্তব্য করুন