এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ২৩ বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে Omni Air পরিচালিত বিশেষ ফ্লাইট OAE2323-এ তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ব্যক্তিরা প্রায় এক দশক আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশ হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করে। সেই প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেরত আসা ব্যক্তিরা ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে তারা দুবাই, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন সীমান্তপথ অতিক্রম করে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সূত্রের ভাষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বৈধভাবে অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রত্যেক ব্যক্তির অভিবাসন মামলা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পদ্ধতি এবং প্রত্যাবাসনের আইনি ভিত্তি আলাদা হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ নথি ছাড়া সবার ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি ছিল বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়।
প্রয়োজনীয় অভিবাসন ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ২৩ বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ ধরনের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভ্রমণ নথি যাচাই, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের পর ফ্লাইট পরিচালিত হয়ে থাকে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ফেরত আসা বাংলাদেশিদের প্রাথমিক সহায়তায় এগিয়ে আসে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা BRAC।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের জন্য হালকা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
অভিবাসন আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে অনেক সময় নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পাশাপাশি বিশেষ বা চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়।
এ ধরনের ফ্লাইট সাধারণ যাত্রী পরিবহনের নিয়মিত সূচির অংশ নাও হতে পারে। একসঙ্গে একাধিক প্রত্যাবাসনযোগ্য ব্যক্তিকে গন্তব্য দেশে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে পারে।
২৩ বাংলাদেশির ক্ষেত্রেও Omni Air-এর OAE2323 ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনাটি আবারও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।
এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সীমান্ত অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পথে মানব পাচারকারী বা দালালচক্রের প্রতারণা, অর্থ হারানো, আটক, আইনি জটিলতা এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কেউ কোনো দেশে পৌঁছে কাজ শুরু করতে পারলেও সেটি নিজে থেকে তার বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নিশ্চিত করে না। সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা, প্রবেশের অনুমতি, কাজের অনুমোদন এবং অবস্থানের আইনি শর্ত আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।
বিদেশে চাকরির প্রলোভনে কোনো মধ্যস্থতাকারী যদি প্রথমে একটি দেশে পাঠিয়ে পরে অন্য দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে এমন প্রস্তাবের বৈধতা ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ‘সীমান্ত পার হলেই কাজ পাওয়া যাবে’, ‘পরে কাগজ হয়ে যাবে’ বা ‘ভিসা ছাড়াই স্থায়ী হওয়া যাবে’—এ ধরনের নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করা বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নিয়োগ প্রক্রিয়া, বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি গন্তব্য দেশের অভিবাসন আইন মেনে চলা জরুরি।
একই সঙ্গে কোনো দেশে প্রবেশের পর ভিসা বা বৈধ অবস্থানের মেয়াদ শেষ হলে সময়মতো প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের ঘটনা সামনে আসায় নিরাপদ, নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনপথ অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্র
মন্তব্য করুন