aviation
প্রকাশিত: 3 October 2026, 11:36:09 Am
অনলাইন সংস্করণ

আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও ‘বার্ড শুটার’ নির্ভর দেশের বিমানবন্দর, অস্ত্র-জনবলেও ঘাটতি

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

দেশের বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সংঘর্ষ বা wildlife strike প্রতিরোধে ব্যবহৃত ব্যবস্থাপনায় একাধিক ঘাটতির চিত্র সামনে এসেছে। কোথাও পাখি তাড়াতে ব্যবহৃত বন্দুক অচল, কোথাও নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন, আবার কোনো বিমানবন্দরে প্রয়োজনের তুলনায় প্রশিক্ষিত জনবল কম।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের আটটি বিমানবন্দরে bird control-এর জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র, লাইসেন্স ও জনবলের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমানবন্দরগুলো থেকে পাঠানো তথ্যে একেক জায়গায় একেক ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে।

সৈয়দপুরে বন্দুক অচল, চট্টগ্রামে একজন প্রশিক্ষিত বার্ড শুটার

বরিশাল বিমানবন্দরে বর্তমানে .১২ বোরের একটি সচল বন্দুক রয়েছে এবং এর লাইসেন্স ২০২৬ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের দোনলা বন্দুকটি ভাঙা এবং ব্যবহারের অনুপযোগী। নতুন বন্দুকের লাইসেন্স পেতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আবেদন করা হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরেও প্রয়োজনীয় wildlife-control equipment-এর ঘাটতির কথা বেবিচককে জানানো হয়েছে। সেখানে শুধু পাখি নয়, কুকুর ও শিয়ালের উপস্থিতিও বিমান চলাচলের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে বনাঞ্চল, জলাশয়, কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগর থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর বিচরণ রয়েছে। বিমানবন্দরটির অর্গানোগ্রামে দুটি bird shooter পদ থাকলেও বর্তমানে একজন প্রশিক্ষিত bird shooter কর্মরত। একটি double-barrel shotgun-এর লাইসেন্স সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে।

যশোর বিমানবন্দরে ব্যবহৃত হচ্ছে পুরোনো .১২ বোরের একনলা বন্দুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বন্দুক ও কার্তুজের চাহিদাও বেবিচকের কাছে পাঠিয়েছে।

সিলেটের দুর্ঘটনায় সামনে এসেছে প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন

বার্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ঘটনায়। সেখানে পাখি তাড়ানোর কার্যক্রম চলাকালে রুবেল বাউরি নামে এক ক্লিনার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ধরনের ঘটনা firearm-based wildlife control পরিচালনায় অস্ত্রের প্রাপ্যতার পাশাপাশি কে অস্ত্র পরিচালনা করবেন, কী ধরনের প্রশিক্ষণ থাকবে, operational procedure কী হবে এবং আশপাশের কর্মীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্নকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। অস্ত্রের লাইসেন্স ব্যক্তির নামে দেওয়ার বিধান থাকায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে অস্ত্র সংগ্রহেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।

বার্ড স্ট্রাইক শুধু পাখি তাড়ানোর সমস্যা নয়

আন্তর্জাতিক aviation practice-এ bird strike prevention বলতে শুধু পাখি দেখা গেলে গুলি ছুড়ে বা শব্দ করে তাড়ানো বোঝায় না। এটি একটি সমন্বিত Wildlife Hazard Management Programme-এর অংশ।

ICAO-এর নির্দেশনায় বিমানবন্দরে wildlife hazard নিয়মিত মূল্যায়ন, strike report সংগ্রহ, ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি শনাক্ত, habitat ও land-use management, পাখি ও প্রাণী তাড়ানোর ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কারণ বিমানবন্দরের ঘাস, জলাশয়, উন্মুক্ত বর্জ্য, খাদ্যের উৎস কিংবা আশপাশের নির্দিষ্ট ভূমি ব্যবহার পাখি ও বন্যপ্রাণীকে আকৃষ্ট করতে পারে। FAA-ও airport wildlife management-এর ক্ষেত্রে habitat modification এবং wildlife attractant নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে। 

অর্থাৎ শুধু বন্দুকের সংখ্যা বাড়ালেই একটি বিমানবন্দরের bird-strike problem-এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান হয় না।

প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগতে পারে

বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পাখির উপস্থিতি শনাক্ত ও ঝুঁকি মূল্যায়নে avian radar এবং অন্যান্য sensor-based detection system ব্যবহার ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। FAA-এর avian radar guidance অনুযায়ী, এ ধরনের radar একটি বিমানবন্দরের Wildlife Hazard Management Plan-কে সহায়তা করতে পারে।

Avian radar নির্দিষ্ট এলাকার পাখির গতিবিধি, অবস্থান ও চলাচলের ধরন পর্যবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে। FAA গবেষণায় radar-এর পাশাপাশি অন্য sensor-এর মাধ্যমে দিন-রাত wildlife detection সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও পরীক্ষা করা হয়েছে। 

তবে avian radar নিজে পাখি তাড়ানোর যন্ত্র নয়। এটি মূলত detection ও situational awareness বাড়ায়। ঝুঁকি কমাতে এরপর trained wildlife-control team, habitat management, dispersal techniques এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ব্যবস্থার সমন্বয় প্রয়োজন।

একইভাবে laser বা অন্যান্য deterrent technique-ও সব প্রজাতি, সব আবহাওয়া কিংবা সব বিমানবন্দরে সমান কার্যকর নয়। তাই প্রযুক্তি নির্বাচনের আগে স্থানীয় পাখির প্রজাতি, চলাচলের সময়, habitat এবং strike history বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ।

উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় ঝুঁকিটা কেন গুরুত্বপূর্ণ

Bird strike-এর বড় উদ্বেগ হলো উড়োজাহাজের engine, windshield, nose, wing বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে পাখির আঘাত লাগা। বিশেষ করে পাখি engine-এ প্রবেশ করলে ক্ষতির মাত্রা গুরুতর হতে পারে।

FAA বলছে, তাদের কাছে রিপোর্ট হওয়া wildlife strike-এর প্রায় সবকটিতেই পাখি জড়িত। তবে সব পাখির ঝুঁকি সমান নয়; পাখির আকার, ওজন, ঝাঁকের আকার এবং সংঘর্ষের অবস্থানের ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে। 

এ কারণে কার্যকর wildlife management-এর জন্য শুধু কতটি পাখি আছে সেটি নয়, কোন প্রজাতি, কোথায় অবস্থান করছে, কখন বেশি সক্রিয় এবং উড়োজাহাজের flight path-এর সঙ্গে তাদের চলাচল কোথায় মিলছে—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় পর্যায়ে কমিটি, সামনে কী করা জরুরি

দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পাখি ও বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি কমাতে বিমানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাজের মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পাখি ও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি, আবাসস্থল, খাদ্যের উৎস ও বিচরণস্থল শনাক্ত করা এবং bird strike-এর কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ।

কমিটির সদস্যসচিব ও বেবিচকের সদস্য এয়ার কমোডর মো. নূর ই আলম জানিয়েছেন, শিগগিরই সভা করে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে তাই শুধু নতুন বন্দুক বা bird shooter নিয়োগ নয়; প্রতিটি বিমানবন্দরের ঝুঁকি অনুযায়ী Wildlife Hazard Assessment, নিয়মিত strike database, প্রশিক্ষিত dedicated team, habitat management, নিরাপদ dispersal procedure এবং প্রয়োজন অনুযায়ী radar ও sensor-based monitoring—সবগুলোকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক নির্দেশনাও মূলত এমন সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়। ফলে বর্তমানে সামনে আসা অস্ত্র, লাইসেন্স ও জনবলের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর bird control ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে প্রতিক্রিয়াভিত্তিক পদ্ধতি থেকে তথ্য ও ঝুঁকিভিত্তিক আধুনিক wildlife management system-এ নেওয়াই হতে পারে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। I

তথ্যসূত্র: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরগুলোর তথ্য; International Civil Aviation Organization (ICAO)—Wildlife Hazard Management guidance; U.S. Federal Aviation Administration (FAA)—Wildlife Hazard Mitigation ও Airport Avian Radar Systems।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সোমবা

1

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিক চালুর লক্ষ্য, বেবিচক চেয়ার

2

দিল্লি বিমানবন্দরের গেটে জলাবদ্ধতা, লখনৌতে ঘুরিয়ে দেওয়া হলো

3

কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ শেষের পথে, অক্টোবরে উদ্বোধন

4

আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায়

5

কারিগরি ত্রুটিতে রোমে আটকা বিমানের ফ্লাইট, ঢাকা–টরন্টোর সূচি

6

বারবার নিষেধ, তবু ভিড়; বাধা দিলেই হুমকি’, শাহজালালে বাড়ছে বি

7

শাহজালালে ৮৬১ গ্রাম স্বর্ণসহ ৩ জন আটক, উদ্ধার স্বর্ণের মূল্য

8

শাহ আমানতে দুবাইফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ১৫০০ গ্রাম স্বর্ণের পে

9

মাউন্ট এথনার অগ্ন্যুৎপাতে কাতানিয়া বিমানবন্দরে প্রায় ৭০০ ফ্ল

10

ফার্নবরো এয়ারশোতে শত শত উড়োজাহাজের অর্ডার, এগিয়ে বোয়িং-এ

11

কর্মস্পৃহা বাড়াতে লাঞ্চ ভাতা চান বেবিচক কর্মকর্তারা

12

থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি, স্ক্যানার ও দক্ষ জনবল নিয়ে

13

বেনামি অভিযোগে ব্যবস্থা নয়, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তদ

14

বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজার-কুয়াকাটা, শত কোটি টাকার

15

যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ত্রুটিতে ১৫০টির বেশি ফ্লাই

16

বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ৩ ড্রিমলাইনার, আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বা

17

মাঝ আকাশে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ইনডিগোর উড়োজাহাজ, নি

18

শাহজালাল বিমানবন্দরে আচারের বয়ামে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্বর্ণ

19

বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় কঠোর নির্দেশনা, হাইজ্যাক-নাশকতা মোকা

20