এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। একই সঙ্গে সৌদি আরবগামী ইন্দোনেশীয় যাত্রীদের জন্য ঢাকাকে সম্ভাব্য ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে ঢাকার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা এ প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে আনিস মাত্তা বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে উন্নত বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে।
বর্তমানে প্রস্তাবটি প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট এয়ারলাইনস, রুটের সময়সূচি কিংবা কার্যক্রম শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য ঢাকাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ হজ, ওমরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনে সৌদি আরব ভ্রমণ করেন। এই যাত্রীদের একটি অংশের জন্য ঢাকা হয়ে সংযোগ ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।
তবে এ ধরনের ট্রানজিট ব্যবস্থা কার্যকর করতে ফ্লাইটের সময়সূচি, যাত্রী চাহিদা, ট্রানজিট সুবিধা, বিমানবন্দরের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বিবেচনা করতে হবে।
ঢাকাকে আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জন্য নতুন যাত্রীবাজার তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সংযোগ ফ্লাইট সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে ভূমিকা বাড়তে পারে।
তবে ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তাবের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কোনো নির্দিষ্ট ফ্লাইট পরিচালনা পরিকল্পনা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ইন্দোনেশিয়াকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানির আহ্বান জানান।
পাশাপাশি দুই দেশের নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও যৌথ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ইন্দোনেশীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের সুযোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়।
উভয় পক্ষ বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট এবং ঢাকাকে সৌদিগামী যাত্রীদের ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
মন্তব্য করুন