কক্সবাজার বিমানবন্দরের চলমান উন্নয়নকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যাত্রী টার্মিনাল ভবনের ভৌত কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ আগস্টের শেষ নাগাদ ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে অক্টোবরের শেষ দিকে উন্নত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল ভবনের প্রধান নির্মাণ ও স্থাপনা-সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের টার্মিনালটিতে একসঙ্গে ৪৫০ যাত্রী ধারণক্ষমতার আন্তর্জাতিক ডিপারচার লাউঞ্জসহ আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।
টার্মিনালে বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট, চেক-ইন কাউন্টার ও ইমিগ্রেশন সুবিধা থাকছে। পাশাপাশি অ্যারাইভাল লাউঞ্জ, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পাম্প হাউস, গভীর নলকূপ এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। ৩৫টি ভিআইপি ও ৯০টি সাধারণ গাড়ির পার্কিং সুবিধাও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
বড় আকারের উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার করে বিদ্যমান ৯ হাজার ফুট রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে।
আগস্টের শেষ নাগাদ রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৩ দশমিক ৭৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআরসহ বড় আকারের উড়োজাহাজের নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রী এবং কার্গো পরিবহনের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৃথকভাবে নকশা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক মানের যাত্রী টার্মিনাল, কন্ট্রোল টাওয়ার, প্রশাসনিক ভবন, গাড়ি পার্কিং, অ্যাপ্রোচ রোড, এসটিপি, জেটি, কার্গো কমপ্লেক্স, কনভেনশন ও বিজনেস সেন্টার, জেনারেল এভিয়েশন সুবিধা, এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার, এয়ারপোর্ট কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল, প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রোন ও উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৬৮২ একর জমি বিবেচনায় রয়েছে।
উন্নয়নকাজের মূল লক্ষ্য কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য গন্তব্যের বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতের বিকাশের পাশাপাশি যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩০টি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট ওঠানামা করে। উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও এয়ারলাইনগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
সমুদ্রঘেঁষা দীর্ঘ রানওয়ে, আধুনিক টার্মিনাল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
মন্তব্য করুন