এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গাড়ি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চালকের দক্ষতা, দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি, নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ এবং গাড়ি বা অবকাঠামোতে কোনো ত্রুটি ছিল কি না—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে চালকের অদক্ষতা কিংবা গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কারণকেই নিশ্চিত হিসেবে বলা ঠিক হবে না।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি বেশ কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
এর মধ্যে রয়েছে—দুর্ঘটনার সময় চালকের দক্ষতা ও ভূমিকা, গাড়িটির গতি কত ছিল, কোনো কারিগরি সমস্যা ছিল কি না এবং তৃতীয় টার্মিনালের সংশ্লিষ্ট স্থানের অবকাঠামোগত কোনো বিষয় দুর্ঘটনায় ভূমিকা রেখেছিল কি না।
মন্ত্রী বলেন, “ড্রাইভারের অদক্ষতা হতে পারে, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ বলা ঠিক হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
ফলে চালকের অদক্ষতাকে এখনই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি তদন্তে যাচাই করা সম্ভাব্য কয়েকটি বিষয়ের একটি।
মন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত তিন বিমানবাহিনী সদস্যের জানাজাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বিমানবাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্বিতীয় তলার ফ্লাইওভার থেকে নিচে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় নিহত হন ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, কর্পোরাল পিয়াস ও এলএসি জুবাইদুল।
দুর্ঘটনার পর তৃতীয় টার্মিনালের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী।
ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন চলাচলে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তে মানবিক ত্রুটির পাশাপাশি গাড়ির কারিগরি অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তার বিষয়টিও যাচাই করা হবে।
বিশেষ করে একটি নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী যানবাহনের চলাচলের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ অপারেশনাল পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান দুর্ঘটনায় এসবের কোনো একটি কারণ ভূমিকা রেখেছে কি না, তা তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রতিবেদনে কোনো মানবিক ভুল, গাড়ির কারিগরি সমস্যা কিংবা অবকাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত হলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনা টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল ও অপারেশনাল নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য চালক, গাড়ি কিংবা তৃতীয় টার্মিনালের অবকাঠামোর কোনো একটিকে দায়ী না করে তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের ফলের অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্য
মন্তব্য করুন