হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চললেও কাস্টমসের স্ক্যানার সংগ্রহ ও দক্ষ জনবল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তৃতীয় টার্মিনালে কাস্টমস কার্যক্রমের জন্য ১৬টি ব্যাগেজ এক্স-রে স্ক্যানার ও চারটি কার্গো স্ক্যানার প্রয়োজন। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি নতুন স্ক্যানার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দরপত্র প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বৈঠকও হয়েছে। দরপত্রের কিছু শর্ত নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় সংশ্লিষ্টরা সিপিটিইউর মতামত চেয়েছেন।
এদিকে পুরনো টার্মিনালে ব্যবহৃত স্ক্যানারগুলো তৃতীয় টার্মিনালে স্থানান্তরের বিষয়টিও সহজ নয়। সেগুলো সরানো হলে বর্তমানে চালু থাকা টার্মিনালের কাস্টমস ও কার্গো কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির স্ক্যানার পরিচালনায় প্রশিক্ষিত ও সনদপ্রাপ্ত অপারেটর নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তৃতীয় টার্মিনালে ইতোমধ্যে ৪০টি কেবিন এক্স-রে মেশিন, ১১টি বডি স্ক্যানার, ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১৬টি কনভেয়ার বেল্ট ও ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টারসহ আধুনিক অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখার বিশাল এপ্রোন ও ১ হাজার ২৩০টি গাড়ির পার্কিং সুবিধা।
অন্যদিকে টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে। রাজস্ব বণ্টন ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ে তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু করতে প্রয়োজনীয় স্ক্যানার সংগ্রহ, দক্ষ জনবল প্রস্তুত এবং পরিচালন কাঠামো চূড়ান্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন