এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন দিনব্যাপী ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক-২০২৬’ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর হোসেন এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব পালনকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে আরও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা শাখা, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্স, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), আনসার এবং বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনকারী এসব সংস্থার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিং ও মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ (Crowd Control), যানবাহন নিয়ন্ত্রণ (Vehicle Control) এবং নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা (Access Control)। নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে এসব মহড়া পরিচালনা করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং নিরাপত্তাবিধি সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিমানবন্দরে যাত্রী ও যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা এবং সংরক্ষিত এলাকায় অনুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রস্তুতি ও সতর্কতা প্রয়োজন। নিয়মিত ব্রিফিং ও মহড়ার মাধ্যমে এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক অনুশীলনের সুযোগ তৈরি হয়।
এভিয়েশন সিকিউরিটি কালচার বা বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্কৃতির মূল বিষয় হলো, বিমানবন্দরের প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা এ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের কর্মসূচি নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক-২০২৬ আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত চলবে। তিন দিনের ব্রিফিং ও মহড়ার মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংস্কৃতি আরও সুসংহত করা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
মন্তব্য করুন