একসময় দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বাংলাদেশ বিমানের ব্রিটিশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ BAe ATP। ঢাকা-রাজশাহী-ঈশ্বরদীসহ স্বল্প দূরত্বের রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়া এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আকাশ যোগাযোগ ছিল আরও সহজ। তবে যান্ত্রিক জটিলতা ও বহর আধুনিকায়নের সিদ্ধান্তের কারণে ২০০৩-০৪ সালের মধ্যে বিমানের বহর থেকে বিদায় নেয় ATP।
১৯৯৭ সালে ঢাকা-রাজশাহী-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন একজন সাবেক যাত্রী। তিনি জানান, রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদী যেতে বিমানের ATP উড়োজাহাজে সময় লাগত মাত্র ১৭ মিনিট। তখন ঈশ্বরদী রুটে বাংলাদেশ বিমানের একমাত্র উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো BAe ATP, যাতে যাত্রী আসন ছিল ৭০টি।
বাংলাদেশ বিমান ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে ব্রিটিশ অ্যারোস্পেস (British Aerospace)-এর তৈরি BAe ATP (Advanced Turbo Prop) উড়োজাহাজ তিনটি কেনার অর্ডার দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের বহরে যুক্ত হয় দুটি উড়োজাহাজ।
বিমান দুটির নিবন্ধন ছিল—
তৃতীয় উড়োজাহাজটি S2-ACZ হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও বাংলাদেশ বিমান সেটি গ্রহণ করেনি (Not Taken Up)।
প্রতিটি BAe ATP উড়োজাহাজে ছিল ৭০টি যাত্রী আসন। এগুলো মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের রুটে পরিচালনা করা হতো।
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে ATP গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঢাকা থেকে রাজশাহী, ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন স্বল্প দূরত্বের রুটে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হতো এই উড়োজাহাজ।
বিশেষ করে ছোট রানওয়ে ও স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ কার্যকর হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
২০০৩ সালের দিকে বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তারা ATP উড়োজাহাজের অপারেশন নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সমসাময়িক প্রতিবেদনে উড়োজাহাজগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি (Mechanical Defect) এবং অভ্যন্তরীণ অপারেশনে নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের বিষয় উঠে আসে।
একই সময়ে বাংলাদেশ বিমান বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেয়। ATP-এর পরিবর্তে নতুন প্রজন্মের টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ হিসেবে ATR 72-500 অথবা Bombardier Dash 8-Q400 যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় S2-ACX ও S2-ACY ২০০৩ সালের শেষ দিকে বিমানের নিয়মিত অপারেশন থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে উড়োজাহাজ দুটি বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বিমানের বহরে BAe ATP-এর সময়কাল ছিল প্রায় এক দশকের বেশি। তিনটি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে দুটি ATP-ই যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
স্বল্প দূরত্বের অভ্যন্তরীণ রুটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর যান্ত্রিক নির্ভরযোগ্যতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং নতুন প্রযুক্তির উড়োজাহাজ আনার সিদ্ধান্তের কারণে ২০০৪ সালে বিমানের ATP যুগের অবসান ঘটে।
মন্তব্য করুন