এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ইসরায়েলের কাফর কারা এলাকায় প্রশিক্ষণমূলক ফ্লাইট পরিচালনার সময় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম The Jerusalem Post-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসড়ক-৬৫-এর পাশে কাফর কারা এলাকায় প্রশিক্ষণ ফ্লাইটটি পরিচালিত হচ্ছিল। উড্ডয়নের একপর্যায়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং পরে এতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ইসরায়েলি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বিধ্বস্ত বিমানটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে। আগুন আশপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বিমানে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করেন।
ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকায় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উদ্ধারকারী দল বিমান থেকে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দগ্ধ অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।
তার শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা শুরু করা হয়।
তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানে থাকা অপর ব্যক্তি দুর্ঘটনার পর ভেতরে আটকা পড়েন।
উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিধ্বস্ত বিমানের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন নিহত এবং অপরজন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাস্থলটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের কাছে হওয়ায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মহাসড়ক-৬৫-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ।
বিধ্বস্ত বিমানে আগুন, জরুরি যানবাহনের চলাচল এবং তদন্তকারীদের কাজের সুবিধার্থে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রমের সময় সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বস্ত বিমানটি কোনো বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছিল না। এটি একটি প্রশিক্ষণমূলক উড্ডয়নে ছিল।
তবে প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের কোন পর্যায়ে বিমানটি সমস্যায় পড়ে এবং বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট কোনো জরুরি বার্তা দিয়েছিলেন কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিমানটির ধরন, নিবন্ধন এবং পরিচালনাকারী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্যও প্রাথমিক প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
বিমান দুর্ঘটনার পর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া, পাইলটের কার্যক্রম বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অনুমান তৈরি হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এর কোনোটিকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা ঠিক হবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্তে বিমানের প্রযুক্তিগত অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণের তথ্য, ফ্লাইটের গতিপথ, আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং উড্ডয়নের সময়কার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করা হতে পারে।
প্রশিক্ষণমূলক উড্ডয়ন বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহনের অংশ না হলেও এ ধরনের ফ্লাইটে বিমান পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পাইলট প্রশিক্ষণের নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট প্রশিক্ষণ বিমানের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্তকারীরা সাধারণত বিমানটির প্রযুক্তিগত অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ডের পাশাপাশি প্রশিক্ষক ও শিক্ষানবিশ পাইলটের কার্যক্রম এবং উড্ডয়নের পরিবেশ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করেন।
তবে কাফর কারার এ দুর্ঘটনায় ঠিক কোন বিষয় ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
কর্তৃপক্ষের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যাবে।
সূত্র: The Jerusalem Post
মন্তব্য করুন