এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশের Boeing উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, “Boeing will not let you down, and I will not forget.” সেই চিঠির তিন সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর নিউইয়র্কে Boeing-এর কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সম্পূরক চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
৩১ আগস্ট হোয়াইট হাউসের letterhead-এ পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প বাংলাদেশের Boeing aircraft কেনার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাওয়ার কথাও জানান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ১ সেপ্টেম্বর চিঠিটির তথ্য প্রকাশ করে।
চিঠিতে Boeing কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ এবং নিকট ভবিষ্যতে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এগুলো ট্রাম্পের চিঠিতে প্রকাশিত বক্তব্য; বাংলাদেশের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীন মূল্যায়ন নয়।
তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—ট্রাম্পের চিঠি কি গত এপ্রিলে চূড়ান্ত হওয়া ১৪টি Boeing-এর order-কে নির্দেশ করছে, নাকি এর বাইরে আরও aircraft কেনার নতুন commitment তৈরি হয়েছে?
২৩ সেপ্টেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তর দিয়েছে। Boeing আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, Biman আরও পাঁচটি 787-10 Dreamliner এবং ছয়টি 737-8—মোট ১১টি aircraft অর্ডার করেছে। এতে ২০২৬ সালে Boeing-এর কাছে Biman-এর মোট order বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
৩১ আগস্টের চিঠিতে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে “Prime Minister of the People's Republic of Bangladesh” হিসেবে সম্বোধন করেন বলে প্রকাশিত চিঠির প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
Boeing purchase নিয়ে তারেক রহমানের পাঠানো চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “very much appreciate your decision of purchase.”
এরপরই তিনি লেখেন, “Boeing will not let you down, and I will not forget.”
ট্রাম্প বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছাও জানান এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘very bright future’ হবে বলে নিজের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের চিঠির আগের দিন, ৩০ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত Sergio Gor সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ বাংলাদেশের Boeing purchase নিয়ে আরও স্পষ্ট একটি দাবি করেন।
Gor বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরেকটি ‘deal’-এ পৌঁছেছেন এবং বাংলাদেশ আরও Boeing aircraft কিনতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার commitment দিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের initial Boeing order উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কথা ছিল।
তবে ওই পোস্টে কতটি অতিরিক্ত aircraft কেনা হবে, সেগুলোর model কী হবে, প্রকৃত contract value কত কিংবা formal purchase agreement কখন হবে—এসব তথ্য ছিল না।
ফলে সে সময় Gor-এর বক্তব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ের ঘোষণা হলেও aircraft acquisition-এর পূর্ণাঙ্গ commercial details তখনো প্রকাশিত হয়নি।
Gor-এর বক্তব্যের পর ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তার ধারণা Gor-এর মন্তব্যটি আগে সম্পন্ন হওয়া Boeing agreement-এর কথাও নির্দেশ করতে পারে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ নিজের aviation requirement অনুযায়ী অতিরিক্ত aircraft কিনবে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে Boeing কেনা হচ্ছে—এমন ধারণা নাকচ করে বলেন, নতুন route চালু, passenger service বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে regional aviation hub হিসেবে গড়ে তোলার জন্য fleet expansion প্রয়োজন।
অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি বক্তব্যে অতিরিক্ত aircraft acquisition-এর সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সংখ্যা ও model তখনো পরিষ্কার ছিল না।
প্রায় তিন সপ্তাহ পর New York-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে Boeing ও Biman নতুন supplemental agreement-এর ঘোষণা দেয়।
Boeing-এর ২৩ সেপ্টেম্বরের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় order-এ রয়েছে—
মোট ১১টি aircraft।
Biman-এর পক্ষে চেয়ারম্যান Rumee A Hossain এবং Boeing-এর পক্ষে Commercial Sales and Marketing-এর Senior Vice President Brad McMullen agreement-এ স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে Boeing জানিয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বরের agreement-এর পর ঘটনাপ্রবাহের chronology গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৩০ আগস্ট Sergio Gor বলেছিলেন, Bangladesh তার initial order উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে আরও Boeing aircraft কেনার commitment দিয়েছে।
৩১ আগস্ট Trump প্রধানমন্ত্রীকে Boeing purchase decision-এর জন্য ধন্যবাদ জানান।
১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন Gor হয়তো আগের agreement-এর কথা বলেছেন; অন্যজন বলেছিলেন প্রয়োজন অনুযায়ী additional aircraft কেনা হবে।
এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর Biman সত্যিই additional 11 aircraft order করে এবং Boeing নিজেই এটিকে বছরের দ্বিতীয় purchase হিসেবে ঘোষণা করে।
এই chronology থেকে পরিষ্কার যে শেষ পর্যন্ত initial 14-aircraft order-এর বাইরে একটি পৃথক additional order বাস্তব হয়েছে।
তবে Trump-এর ৩১ আগস্টের চিঠিতে aircraft-এর সংখ্যা বা model লেখা ছিল না। ফলে চিঠির প্রতিটি শব্দ সরাসরি ২৩ সেপ্টেম্বরের ১১-aircraft agreement-এর commercial terms-কে নির্দেশ করেছিল—এমন দাবি করার মতো বিস্তারিত তথ্য চিঠিতে নেই।
Biman গত ৩০ এপ্রিল Boeing-এর কাছে ১৪টি নতুন aircraft-এর সবচেয়ে বড় একক order দেয়।
সেই package-এ ছিল—
এরপর সেপ্টেম্বরের পাঁচটি 787-10 ও ছয়টি 737-8 যোগ হয়েছে।
দুই order মিলিয়ে Biman-এর Boeing order book এখন—
সব মিলিয়ে ২৫টি নতুন Boeing aircraft।
প্রথম ১৪টি aircraft-এর package-এর জন্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে। Reuters-ও এপ্রিলের agreement-কে $3.7 billion deal হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কিন্তু সেপ্টেম্বরের additional 11-aircraft order-এর প্রকৃত negotiated contract value Boeing-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রকাশ করা হয়নি।
কিছু প্রতিবেদনে catalogue বা indicative price-এর ভিত্তিতে মূল্য হিসাব করা হলেও সেটিকে actual purchase price ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
Aircraft manufacturer ও airline-এর commercial negotiation-এ discount, financing, support package, training এবং অন্যান্য commercial term থাকতে পারে।
Additional order-এর সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো Biman-এর planned fleet renewal-এর scale বেড়ে যাওয়া।
এপ্রিলের ১৪টির সঙ্গে সেপ্টেম্বরের ১১টি যোগ হওয়ায় Boeing aircraft order এখন ২৫টি।
এর মধ্যে ১৫টি Dreamliner এবং ১০টি 737-8।
787-10 বেশি capacity-র wide-body aircraft হওয়ায় high-demand international route-এ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে 737-8 regional single-aisle network সম্প্রসারণে ব্যবহার করা যেতে পারে।
Boeing-এর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন aircraftগুলো Biman-এর fleet renewal এবং international growth strategy-এর অংশ। Manufacturer আরও দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট 787 ও 737 MAX family তারা যে পুরোনো aircraft replace করবে তার তুলনায় ২০–২৫ শতাংশ বেশি fuel-efficient। এটি Boeing-এর manufacturer claim হিসেবে বিবেচ্য।
Boeing purchase নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বা রাজনৈতিক চাপের কারণে বাংলাদেশ অতিরিক্ত aircraft কিনছে কি না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ১ সেপ্টেম্বর এ ধারণা নাকচ করেন।
তার বক্তব্য ছিল, সিদ্ধান্তটি aviation sector-এর demand-এর ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে এবং Bangladesh-এর fleet expansion, নতুন route, passenger service ও regional aviation hub হওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে Reuters ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নতুন Boeing order-কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এবং tariff concern-এর বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও তুলে ধরেছে।
ফলে দুটি আলাদা framing রয়েছে—বাংলাদেশ সরকার procurement-টিকে aviation requirement-driven বলছে, আর কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এটিকে broader trade relationship-এর সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।
কোন উদ্দেশ্য কতটা প্রভাব ফেলেছে—এ বিষয়ে প্রকাশ্য নথি ছাড়া স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হচ্ছে—Trump-এর চিঠি এবং Biman-Boeing purchase agreement একই ধরনের নথি নয়।
৩১ আগস্টের চিঠিটি ছিল দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে correspondence, যেখানে Boeing purchase decision-এর প্রশংসা করা হয়েছে।
অন্যদিকে aircraft-এর model, quantity, delivery এবং commercial obligation নির্ধারণের বিষয়টি Biman ও Boeing-এর agreement-এর আওতাভুক্ত।
২৩ সেপ্টেম্বরের agreement-এ Biman এবং Boeing-ই contracting parties হিসেবে সামনে এসেছে।
তাই ‘Trump Biman-এর aircraft contract করেছেন’—এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা যথাযথ হবে না।
আগস্টের শেষ দিকে মূল প্রশ্ন ছিল—বাংলাদেশ আসলেই প্রথম ১৪টির বাইরে আরও Boeing কিনবে কি না।
২৩ সেপ্টেম্বরের পর সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে: হ্যাঁ, Biman আরও ১১টি aircraft order করেছে।
এখন বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়।
Additional 11 aircraft-এর detailed delivery schedule কী হবে, actual negotiated price কত, financing কীভাবে হবে এবং কোন route-এ নতুন capacity ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ commercial details এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। Boeing-এর ২৩ সেপ্টেম্বরের ঘোষণাতেও মূল্য, financing terms বা detailed delivery dates দেওয়া হয়নি।
ফলে ৩১ আগস্ট Trump-এর চিঠি এখন Bangladesh-US aviation relationship-এর একটি উল্লেখযোগ্য diplomatic episode হলেও Biman-এর জন্য মূল পরীক্ষা হবে aircraft acquisition programme-এর বাস্তবায়ন।
২৫টি নতুন Boeing-এর order fleet modernisation-এর বড় পরিকল্পনা; তবে এর আর্থিক ও operational ফল নির্ভর করবে financing, delivery, manpower preparation, maintenance capability এবং নতুন aircraft লাভজনকভাবে ব্যবহারের ওপর।
সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং
মন্তব্য করুন