এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
জাপানের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইন্সের (JAL) প্রায় ৯২ হাজার গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাডিউসের (Amadeus) পরিচালিত যাত্রী রিজার্ভেশন সিস্টেমে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।
জাপান এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর অ্যামাডিউস কর্তৃপক্ষ জাপান এয়ারলাইন্স ও জাপান ট্রান্সওশান এয়ারকে তাদের সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়টি জানায়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।
জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের ফ্লাইট রিজার্ভেশনসংক্রান্ত তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের আওতায় পড়েছে।
এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের নাম, বুকিং রেফারেন্স নম্বর, ভ্রমণের তারিখ, ফ্লাইটের রুট এবং টিকিটের শ্রেণি।
এ ছাড়া আরও প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে থাকতে পারে।
এসব তথ্যের মধ্যে ই-মেইল ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পাসপোর্টের তথ্য, জাতীয়তা, ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার নম্বর, টিকিটের বিবরণ এবং আসন বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
তবে জাপান এয়ারলাইন্স নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় গ্রাহকদের পেমেন্ট কার্ডের তথ্য কিংবা অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এয়ারলাইনটি আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত উন্মুক্ত হওয়া তথ্যের অপব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাডিউস নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জাপান এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা বা বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করেছে জাপান এয়ারলাইন্স।
একই সঙ্গে তাঁদের সন্দেহজনক ই-মেইল, ভুয়া ফোনকল এবং এয়ারলাইন্সের পরিচয়ে তৈরি প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে যাত্রীদের বুকিং নম্বর, ভ্রমণের তারিখ ও রুটের মতো তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকেরা বিশ্বাসযোগ্য বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে।
এ কারণে অপ্রত্যাশিত কোনো বার্তায় দেওয়া লিংকে প্রবেশ কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর অ্যামাডিউস তাদের ট্রাভেল বুকিং প্রদর্শনসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত পরিবেশে একটি নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয় প্রকাশ করে।
পরবর্তী সময়ে জাপান এয়ারলাইন্সের গ্রাহকদের তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
এ ছাড়া অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ, এশিয়ানা এয়ারলাইন্স এবং কোরিয়ান এয়ারের মতো কয়েকটি বিমান সংস্থাও অ্যামাডিউসের সিস্টেমসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ঘটনার কথা জানিয়েছে।
তবে এসব ঘটনার প্রকৃতি, কারণ ও প্রভাব এক রকম নয়। ফলে সব ঘটনাকে একই সাইবার হামলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার মতো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতে যাত্রীদের বুকিং, টিকিট, ভ্রমণসূচি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহার করা হয়।
এ ধরনের ব্যবস্থায় নিরাপত্তা দুর্বলতা তৈরি হলে একাধিক এয়ারলাইন্সের গ্রাহকদের তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
জাপান এয়ারলাইন্সের সাম্প্রতিক ঘটনাটি বিমান পরিবহন খাতে তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিগত সেবার নিরাপত্তা, গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: জাপান এয়ারলাইন্স
মন্তব্য করুন