এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ট্যাক্সিচালক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক একটি ট্যাক্সি কোম্পানি। কর্মী বাছাইয়ের জন্য আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট ঢাকায় সরাসরি সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের বাছাই করতে দুবাই থেকে কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে।
রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BKTTC)-এ দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার ও বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
নিয়োগ কার্যক্রমের বাংলাদেশে স্থানীয় আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজ (রিক্রুটিং লাইসেন্স নম্বর: RL-2735)।
এই নিয়োগে আবেদন করতে প্রার্থীদের কমপক্ষে এসএসসি বা সমমান পাস হতে হবে। বয়স হতে হবে ২৩ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
যেহেতু নিয়োগটি সরাসরি গাড়িচালকের পদে, তাই প্রার্থীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় নথি সাক্ষাৎকারের সময় সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।
প্রার্থীর কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি দুবাই থেকে আসা প্রতিনিধিদল সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য চালক বাছাই করবে।
২৯ ও ৩০ আগস্ট সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় মূল ও অনুলিপি কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
মূল পাসপোর্ট, পাসপোর্টের রঙিন ফটোকপি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের রঙিন ফটোকপি, সাদা পটভূমির ছবি, হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (CV) এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের রঙিন কপি।
সাক্ষাৎকারের আগে পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদসহ সব তথ্য ঠিক আছে কি না যাচাই করে নেওয়া প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচিত বাংলাদেশি চালকদের প্রাথমিক চাকরির মেয়াদ হবে দুই বছর। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী চুক্তি নবায়নের সুযোগ থাকবে।
চালকরা কোম্পানির নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনভিত্তিক আয়ের সুযোগ পাবেন।
তবে কমিশনভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রে মাসিক আয় নির্দিষ্ট বেতনের মতো সবসময় একই নাও হতে পারে। কাজের পরিমাণ, ট্রিপ, কোম্পানির কমিশন কাঠামো এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করতে পারে।
তাই নির্বাচিত হওয়ার পর চূড়ান্ত চাকরির চুক্তিপত্রে কমিশনের হার, সম্ভাব্য আয়, কর্মঘণ্টা, সাপ্তাহিক ছুটি এবং কোনো ধরনের কর্তন থাকলে তা ভালোভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, মেডিকেল এবং Emirates ID-সংক্রান্ত ব্যয় কোম্পানি বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
আবাসনের ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠান করবে।
তবে আবাসন সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেওয়া হচ্ছে—এমন নয়। চালককে গাড়ি দেওয়ার তিন মাস পর থেকে আবাসন বাবদ নির্ধারিত অর্থ তার মাসিক আয় থেকে কেটে নেওয়া হবে।
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এই কর্তনের পরিমাণ এবং অন্য কোনো নিয়মিত খরচ কর্মীর আয় থেকে কাটা হবে কি না, তা লিখিতভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ থেকে আরও চালক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী ট্যাক্সি ও লিমোজিন চালক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানানো হয়েছে।
তাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি।
নতুন করে আরও এক হাজার চালক নিয়োগ সম্পন্ন হলে দুবাইয়ের পরিবহন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
সরাসরি সাক্ষাৎকারে নির্বাচিত হওয়া বিদেশে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার একটি ধাপ মাত্র। চূড়ান্তভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার আগে বৈধ Employment Visa বা Work Permit, চাকরির চুক্তিপত্র এবং বাংলাদেশের প্রযোজ্য বহির্গমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে কমিশনভিত্তিক চাকরি হওয়ায় প্রার্থীদের শুধু সম্ভাব্য আয়ের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে লিখিত চুক্তির শর্ত দেখা উচিত।
চুক্তিতে বেতন বা কমিশন কাঠামো, কর্মঘণ্টা, আবাসন ব্যয়, গাড়ি বা জ্বালানিসংক্রান্ত কোনো কর্তন, ট্রাফিক জরিমানার দায়, ছুটি, চিকিৎসা সুবিধা এবং চাকরি বাতিলের শর্তগুলো স্পষ্ট আছে কি না যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
বড় পরিসরে বিদেশি চালক নিয়োগের খবরকে কেন্দ্র করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা মধ্যস্থতাকারীর তৎপরতা তৈরি হতে পারে। তাই আগ্রহীদের নির্ধারিত সাক্ষাৎকার ও সরকার অনুমোদিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে কারও কাছে পাসপোর্ট বা অর্থ দেওয়ার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কেউ যদি সাক্ষাৎকার ছাড়াই ‘নিশ্চিত দুবাই ভিসা’, ‘নিশ্চিত ট্যাক্সি ড্রাইভার চাকরি’ কিংবা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং লাইসেন্স ও Job Order যাচাই করা উচিত।
নিয়োগ কার্যক্রমের স্থানীয় দায়িত্বে থাকা আল আনাস ওভারসিজের RL-2735 নম্বরটিও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে একসঙ্গে এক হাজার ট্যাক্সিচালক নিয়োগের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবহন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি চালকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
মন্তব্য করুন