এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীর দেহ তল্লাশি করে ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের এয়ারপোর্ট ইউনিট। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১ হাজার ৪৯ দশমিক ৪০ গ্রাম বা প্রায় ১ দশমিক ০৫ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মী ওবায়দুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একজন যাত্রীকেও আটক করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে ঢাকা কাস্টম হাউসের এয়ারপোর্ট ইউনিট অভিযানটি পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মী ওবায়দুর রহমানের দেহ তল্লাশি করা হয়।
এ সময় তার শার্টের পকেট ও কোমরের বেল্ট থেকে টিস্যুতে মোড়ানো অবস্থায় ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে এনবিআর।
উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন পরিমাপ করে পাওয়া যায় ১ হাজার ৪৯ দশমিক ৪০ গ্রাম, যা প্রায় ১ দশমিক ০৫ কেজি।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা।
স্বর্ণ উদ্ধারের পর বিমানকর্মী ওবায়দুর রহমানকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে একজন যাত্রীকে আটক করা হয়।
তবে আটক যাত্রীর পরিচয়, তিনি কোন ফ্লাইটে এসেছিলেন কিংবা উদ্ধার করা স্বর্ণের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং স্বর্ণের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে পরবর্তী অনুসন্ধানে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মী ওবায়দুর রহমানকে আটক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
কোনো এয়ারলাইনের কর্মীর কাছ থেকে এভাবে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের চলাচলের জন্যও নির্ধারিত নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে।
তবে উদ্ধার ও আটকের তথ্যের ভিত্তিতেই কোনো ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণ এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের অধীনে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত উদ্ধার করা স্বর্ণের বৈধ কাগজপত্র, বহনের উদ্দেশ্য, উৎস ও সম্ভাব্য গন্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হতে পারে।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমসের পাশাপাশি এভসেক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অভিযানেও একাধিক সংস্থার সমন্বয় ছিল।
বিশেষ করে বিমানবন্দরের কর্মীদের মাধ্যমে নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করতে কর্মী পর্যায়ের নিরাপত্তা তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় আটক বিমানকর্মী ও যাত্রীর মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল এবং উদ্ধার করা স্বর্ণ কোথা থেকে এসেছে—এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত এগিয়ে গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)
মন্তব্য করুন