এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing জুলাই মাসে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনস ও গ্রাহকের কাছে ৫৩টি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে। জুনের তুলনায় সরবরাহ কমলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জুনে Boeing ৬৪টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছিল। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে সরবরাহ প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে। তবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরবরাহ করা ৪৮টি উড়োজাহাজের তুলনায় এবারের সংখ্যা বেশি।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত Boeing-এর মোট বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ৩৬৭টিতে। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩২৮টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছিল। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে সরবরাহ প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে।
জুলাইয়ের সরবরাহে সবচেয়ে বড় অংশ ছিল 737 MAX পরিবারের। মাসটিতে মোট ৩৯টি 737 MAX গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি 737 MAX 8 এবং সাতটি 737 MAX 9। শুধু United Airlines-ই পেয়েছে ১০টি উড়োজাহাজ।
এ ছাড়া Boeing জুলাইয়ে ১০টি 787 Dreamliner, তিনটি 767 এবং একটি 777 Freighter সরবরাহ করেছে।
জুনের তুলনায় জুলাইয়ে Boeing-এর মোট সরবরাহ কমার পেছনে মূলত widebody উড়োজাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। জুনে ২১টি widebody সরবরাহ করা হলেও জুলাইয়ে তা কমে ১৪টিতে দাঁড়ায়।
তবে 737 MAX-এর উৎপাদন আরও বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে Boeing। প্রতিষ্ঠানটি মাসিক উৎপাদন ৪২টি থেকে বাড়িয়ে ৪৭টিতে নেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে। পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে মাসে ৫২টি 737 উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
উৎপাদনের হার বাড়ানো Boeing-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু বেশি উড়োজাহাজ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং গ্রাহকদের কাছে সময়মতো উড়োজাহাজ হস্তান্তর—সবগুলো বিষয়ই উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।
সরবরাহের গতি বাড়লেও ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী Airbus-এর তুলনায় Boeing এখনো পিছিয়ে রয়েছে। জুলাইয়ে Airbus ৬৭টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে, যেখানে Boeing-এর সরবরাহ ছিল ৫৩টি।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও Airbus এগিয়ে রয়েছে। এ সময়ে Airbus মোট ৪১৮টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে, বিপরীতে Boeing-এর সরবরাহ ৩৬৭টি। অর্থাৎ সাত মাস শেষে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবধান ৫১টি উড়োজাহাজ।
উড়োজাহাজ সরবরাহের উন্নতি Boeing-এর নগদ প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির Free Cash Flow ছিল ৬৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রান্তিকে Boeing এই সূচকে ইতিবাচক অবস্থানে ফিরেছে। বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ নির্মাতাদের ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে aircraft delivery গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণত উড়োজাহাজ হস্তান্তরের সময়ই ক্রয়মূল্যের উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়া যায়।
ফলে আগামী মাসগুলোতে 737 MAX-এর উৎপাদন ও সরবরাহ কতটা বাড়াতে পারে এবং একই সঙ্গে 787সহ widebody সরবরাহের গতি ধরে রাখতে পারে কি না—তা Boeing-এর উৎপাদন পুনরুদ্ধার ও আর্থিক অবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
সূত্র: Boeing-এর ডেলিভারি তথ্য
মন্তব্য করুন