বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) ১৯৬০ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫০ কোটি যাত্রী পরিচালনার মাইলফলক অর্জন করেছে।
দুবাই সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত International Media Briefings-এর দ্বিতীয় অধিবেশনে Dubai Airports-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Paul Griffiths বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ এবং দুবাইয়ের এভিয়েশন খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে DXB দিয়ে ৩ কোটি ১৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। জুনে মাসিক যাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ লাখ, যা জুলাইয়ে বেড়ে ৬৩ লাখে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে বিমানবন্দরটি প্রায় ৭ কোটি যাত্রী পরিচালনা করতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বার্ষিক যাত্রী সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
Griffiths বলেন, দুবাইয়ের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এভিয়েশন খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিমান চলাচল পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে এগিয়ে নিচ্ছে; আবার দুবাইয়ের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণও বিমান ভ্রমণের চাহিদা বাড়াচ্ছে। বর্তমানে DXB-এর যাত্রীদের প্রায় অর্ধেক দুবাইকে গন্তব্য বা উৎপত্তিস্থল হিসেবে ব্যবহার করেন, আর বাকি অর্ধেক ট্রানজিট যাত্রী।
দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ এভিয়েশন অবকাঠামোর কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে Al Maktoum International Airport-এর উন্নয়ন। বিমানবন্দরটির প্রথম বড় ধাপ আগামী দশকের শুরুতে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এ পর্যায়ে বছরে ১৫ কোটি যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি হবে, যা DXB-এর সর্বোচ্চ প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ সক্ষমতার চেয়েও বেশি।
সম্পূর্ণ উন্নয়ন শেষে Al Maktoum International বছরে সর্বোচ্চ ২৬ কোটি যাত্রী পরিচালনা করতে পারবে। বিমানবন্দরটির দ্বিতীয় রানওয়ে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে এখানে পাঁচটি রানওয়ে থাকবে।
DXB থেকে Al Maktoum International-এ কার্যক্রম একবারে স্থানান্তর করা হবে না। নতুন সক্ষমতা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে এ স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী বছর flydubai তাদের কয়েকটি উড়োজাহাজ নতুন বিমানবন্দরে স্থানান্তর করতে পারে বলেও জানান Griffiths।
Al Maktoum International-এ যাত্রীসেবার পুরো অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। Facial Recognition ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে Check-in, Baggage Drop এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন ধাপে দীর্ঘ সারি কমিয়ে ‘Queue-free’ passenger experience তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে Artificial Intelligence (AI) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি বিমানবন্দরের পরিচালনা এবং যাত্রীসেবায় আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন Dubai Airports-এর প্রধান নির্বাহী।
তিনি বলেন, নতুন বিমানবন্দরকে এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায়। একই সঙ্গে ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন শহরের সঙ্গে নতুন সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়েও এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
দুবাইয়ের এভিয়েশন খাতের এই সম্প্রসারণ শুধু বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবেই বিমান চলাচলকে ব্যবহার করছে দুবাই।
মন্তব্য করুন