এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিনে পৃথক তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে ২২৩ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ৪৪ পিস ভেপ এবং ১৪৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। আটক পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের বি-শিফট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা সন্দেহভাজন যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালায়।
এরপর দুবাই, মালয়েশিয়া ও গুয়াংজু থেকে আসা পৃথক ফ্লাইটের কয়েকজন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব পণ্য আটক করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা Emirates Airlines-এর EK584 ফ্লাইটের যাত্রী Abdul Karim গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তার ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হয়।
এরপর ব্যাগেজ তল্লাশি ও ইনভেন্টরি করে সেখান থেকে ২২৩ কার্টন বিদেশি সিগারেট আটক করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
গ্রিন চ্যানেল সাধারণত ঘোষণা দেওয়ার মতো শুল্কযোগ্য পণ্য নেই—এমন যাত্রীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে কোনো যাত্রীর কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য পাওয়া গেলে সেটি সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও ব্যাগেজ বিধির আওতায় যাচাই করা হয়।
একই দিনে মালয়েশিয়া থেকে আসা AirAsia-এর AK71 ফ্লাইটের যাত্রী Shepon-এর ব্যাগেজও তল্লাশি করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
তার ব্যাগেজ থেকে ৪৪ পিস ভেপ আটক করা হয়।
তবে ভেপগুলো কী ধরনের ছিল, এগুলোর পৃথক মূল্য কত অথবা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে গুয়াংজু থেকে আসা US-Bangla Airlines-এর BS326 ফ্লাইটের দুই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মোবাইল ডিসপ্লে আটক করা হয়।
যাত্রী KM Tofail Ahmed-এর ব্যাগেজ থেকে ৯৮ পিস এবং Shamima Akter-এর ব্যাগেজ থেকে আরও ৪৬ পিস মোবাইল ডিসপ্লে পাওয়া যায়।
দুই যাত্রীর কাছ থেকে সব মিলিয়ে ১৪৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লে আটক করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হিসাবে তিন ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে আটক সব পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা।
একই দিনে তিনটি ভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ব্যাগেজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি পণ্য পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে পৃথক ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলোকে একই চক্রের কার্যক্রম হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে পণ্যগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য, প্রযোজ্য শুল্ক ও ব্যাগেজ বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় আরও স্পষ্ট হতে পারে।
একই সঙ্গে যাত্রীদের কেউ অন্য কারও হয়ে পণ্য বহন করছিলেন কি না, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়।
কাস্টমস গোয়েন্দার এ অভিযান আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আগত যাত্রীদের গ্রিন চ্যানেল ও ব্যাগেজ নজরদারির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)
মন্তব্য করুন