এভিয়েশন বার্তা বিশেষ প্রতিনিধি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হল সংলগ্ন একটি ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতর থেকে ৪.২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। প্রাথমিক হিসাবে এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে উদ্ধার করা পুরো ৪.২০৪ কেজিই স্বর্ণ—এটি এখনো নিশ্চিত নয়। পেস্ট প্রক্রিয়াজাত করে প্রকৃত স্বর্ণ পৃথক করা এবং বিশুদ্ধতা পরীক্ষার পরই স্বর্ণের চূড়ান্ত ওজন ও বাজারমূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এয়ারপোর্ট (এ-শিফট) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্ট সংলগ্ন ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংক তল্লাশি করা হয়।
সেখান থেকে পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা। উদ্ধারকালে প্যাকেটগুলোর কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি।
পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো কাস্টমস হলের ইনভেন্টরি টেবিলে খোলা হয়।
প্যাকেটগুলোর ভেতর থেকে প্রাথমিকভাবে মোট ৪.২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার করা পেস্ট বর্তমানে নিবন্ধিত স্বর্ণকারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
এ প্রক্রিয়ায় পেস্টের অন্যান্য উপাদান থেকে প্রকৃত স্বর্ণ পৃথক করার পাশাপাশি স্বর্ণের ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে।
ফলে উদ্ধার করা পেস্টের মোট ওজন ৪.২০৪ কেজি হলেও শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ঠিক কত কেজি স্বর্ণ পাওয়া যাবে, তা পরীক্ষার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধার করা পেস্ট থেকে পাওয়া সম্ভাব্য স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারে।
তবে এটিও চূড়ান্ত মূল্য নয়।
পেস্ট থেকে স্বর্ণ পৃথক করার পর প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করা হলে উদ্ধার করা স্বর্ণের চূড়ান্ত বাজারমূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন—এ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসদৃশ পেস্ট কার এবং কীভাবে সেটি কাস্টমস হল সংলগ্ন ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতরে পৌঁছাল।
উদ্ধারের সময় প্যাকেটগুলোর কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি। ফলে কোনো নির্দিষ্ট যাত্রী বা ব্যক্তিকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা পেস্টের মালিক হিসেবে চিহ্নিত করার তথ্যও পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুসন্ধান করছে।
তদন্তে প্যাকেটগুলোর প্রকৃত মালিক, এগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং কীভাবে বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকে রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো যাত্রী, বিমানকর্মী বা বিমানবন্দরে কর্মরত অন্য কাউকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
কাস্টমসের পরীক্ষণ ও পৃথকীকরণ কার্যক্রম শেষ হলে ৪.২০৪ কেজি পেস্ট থেকে প্রকৃতপক্ষে কত স্বর্ণ পাওয়া গেল, এর বিশুদ্ধতা কত এবং চূড়ান্ত বাজারমূল্য কত দাঁড়াল—সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
সূত্র: কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID) ও ঘটনাসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য
মন্তব্য করুন