দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবায় বড় পরিবর্তন আসবে। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের আধুনিক এই টার্মিনালে রাখা হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর চেক-ইন, ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ও বোর্ডিং সুবিধা।
তৃতীয় টার্মিনালে থাকছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, যার মধ্যে ১৫টি সেলফ চেক-ইন কাউন্টার। যাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে থাকছে ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন কাউন্টার। পাশাপাশি ভিআইপি ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল বা ই-গেট সুবিধা রাখা হয়েছে।
টার্মিনালটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে বোর্ডিং ব্রিজ। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশায় মোট ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ থাকবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১৪টি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে টার্মিনাল ভবন থেকে যাত্রীরা সরাসরি উড়োজাহাজে ওঠানামা করতে পারবেন।
ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনাতেও থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রীদের লাগেজ বাছাই ও সরবরাহ করা হবে। আগত যাত্রীদের ব্যাগেজ সংগ্রহের জন্য থাকছে ১৬টি ব্যাগেজ কনভেয়ার বেল্ট।
টার্মিনালে নির্মাণ করা হয়েছে প্রশস্ত ডিপারচার ও অ্যারাইভাল কনকোর্স। পাশাপাশি থাকছে ডিউটি-ফ্রি শপ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রিটেইল সুবিধা, লাউঞ্জ, ভিআইপি সুবিধা এবং যাত্রীদের আরাম ও প্রয়োজন বিবেচনায় আধুনিক প্যাসেঞ্জার কমফোর্ট ফ্যাসিলিটি।
যাত্রী ও দর্শনার্থীদের গাড়ি রাখার জন্য রয়েছে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন। টার্মিনালের সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনার সহজ যোগাযোগ নিশ্চিতে রয়েছে টানেল ও সংযোগ ব্যবস্থা। বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ হিসেবে আলাদা ভিভিআইপি কমপ্লেক্স এবং নতুন কার্গো সুবিধাও রাখা হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আধুনিক চেক-ইন, ই-গেট, স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ ব্যবস্থা, বোর্ডিং ব্রিজ, উন্নত ইমিগ্রেশন এবং বাণিজ্যিক সুবিধার সমন্বয়ে তৃতীয় টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক এয়ারপোর্ট টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার সক্ষমতা ও মান—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন