এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ইউরোপে অবস্থানের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সাইপ্রাস, গ্রিস ও বুলগেরিয়া থেকে ৪০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাদের গ্রহণ করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একটি দল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৯ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা, খাবার এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়।
বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ৪০ বাংলাদেশির মধ্যে সাইপ্রাস থেকে ২৪ জন, গ্রিস থেকে ১৫ জন এবং বুলগেরিয়া থেকে একজন রয়েছেন।
তাদের বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি সকাল পৌনে ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এ সময় এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহযোগিতায় তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), এভসেক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ফেরত আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউরোপে বৈধভাবে অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের ছিল না।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এ ধরনের ক্ষেত্রে কাউকে শুধু ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার পরিবর্তে তার অভিবাসন পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথির অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে ফেরার পর ৪০ বাংলাদেশির প্রত্যেককে ২৯ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে মোট সহায়তার পরিমাণ ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
পাশাপাশি তাদের খাবারের ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনিয়মিতভাবে ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষর করে।
এই ব্যবস্থার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে গত ২১ মে আরও ২৭ বাংলাদেশিকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
ইউরোপ থেকে প্রত্যাবাসনের পর বিমানবন্দরে একাধিক সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গ্রহণ, তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা এবং পরবর্তী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ফেরত আসা ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে পুনরায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম
মন্তব্য করুন