টেকসই বিমান জ্বালানির (Sustainable Aviation Fuel–SAF) উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল (Sovereign Wealth Fund) ব্রাজিলের দেশীয় একটি ফল থেকে জেট জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বৈশ্বিক বিমান শিল্পে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিমান পরিবহন খাতে টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ জেট জ্বালানি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় এ খাতকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রাজিলের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত একটি ফলকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বিকল্প জেট জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অংশ। তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্পটি সফল হলে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো কম কার্বন নিঃসরণকারী জেট জ্বালানির একটি নতুন উৎস পাবে। এতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের কার্বন নিরপেক্ষতা (Net Zero) অর্জনের প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে যাবে এবং বিভিন্ন দেশের পরিবেশগত লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের এয়ারলাইন্সের জন্য টেকসই বিমান জ্বালানির সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ বিনিয়োগের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্রাজিলের মধ্যে কৃষি, জ্বালানি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যৌথ গবেষণা, বাণিজ্যিক উৎপাদন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প জেট জ্বালানির বাজার সম্প্রসারণের ফলে প্রচলিত তেলভিত্তিক জ্বালানি শিল্পকে নতুন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতের বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবুও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বিমান জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি বৈশ্বিক বিমান শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ শুধু একটি শিল্প প্রকল্প নয়, বরং বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে বিকল্প জ্বালানির বাণিজ্যিক ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে টেকসই বিমান জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের পথ সুগম হবে।
মন্তব্য করুন