ঢাকায় চলমান ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ২০২৬ উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য দুটি বিশেষ ভ্রমণ অফার ঘোষণা করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা। মেলার তিন দিনে এয়ারলাইনটির যেকোনো গন্তব্যের টিকিটে ২০ শতাংশ ছাড় পাওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজারের কয়েকটি হোটেলের সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষ মূল্যের ভ্রমণ প্যাকেজ নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত মেলায় এয়ার অ্যাস্ট্রার চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মেস-বাহ-উল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
আসন্ন শীতকালীন পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এয়ারলাইনটি। বর্তমানে এ রুটে দৈনিক ৯টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চাহিদা অনুযায়ী তা ১৪ থেকে ১৫টি পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এয়ার অ্যাস্ট্রার ঘোষণা অনুযায়ী, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের তিন দিন এয়ারলাইনটির যেকোনো গন্তব্যের টিকিট কিনলে যাত্রীরা ২০ শতাংশ ছাড় পাবেন।
ভ্রমণ মেলায় এ ধরনের ছাড় যাত্রীদের জন্য বিশেষ করে আসন্ন শীতকালীন ছুটি বা পর্যটন মৌসুমের ভ্রমণ আগাম পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে টিকিট কেনার আগে ছাড়টি মূল ভাড়ার ওপর নাকি মোট টিকিট মূল্যের ওপর প্রযোজ্য, ভ্রমণের নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি না এবং টিকিট পরিবর্তন বা বাতিলের ক্ষেত্রে কী শর্ত থাকবে—এসব বিষয় জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বিমান টিকিটের মোট মূল্যে বেস ফেয়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন কর ও চার্জ থাকতে পারে এবং প্রচারণামূলক টিকিটের পরিবর্তন বা রিফান্ডের শর্ত সাধারণ টিকিটের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।
মেস-বাহ-উল ইসলাম জানান, এয়ার অ্যাস্ট্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় হোটেলের সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষ মূল্যের ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে।
এ ধরনের প্যাকেজে বিমান টিকিট ও হোটেল একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকলে আলাদাভাবে বুকিংয়ের তুলনায় পর্যটকের ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হতে পারে।
তবে প্যাকেজ কেনার আগে যাত্রীদের হোটেলের ধরন, কত রাতের আবাসন অন্তর্ভুক্ত, খাবার বা বিমানবন্দর স্থানান্তর সুবিধা রয়েছে কি না, অতিরিক্ত কর ও চার্জ এবং বাতিল বা তারিখ পরিবর্তনের নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে পর্যটনের পিক সিজনে হোটেল ও ফ্লাইটের আসন দ্রুত পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই অফার থাকলেও নির্দিষ্ট তারিখে আসন ও কক্ষের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আসন্ন পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার রুটে যাত্রী চাহিদা বাড়বে ধরে নিয়ে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এয়ার অ্যাস্ট্রা।
বর্তমানে এয়ারলাইনটি কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন ৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা।
পিক সিজনে যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় এ সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫টি ফ্লাইটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীদের জন্য আরও বেশি সময়ের ফ্লাইট বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পর্যটন মৌসুমে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতেও সহায়ক হতে পারে।
তবে ১৪–১৫টি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি এখনো আসন্ন মৌসুমের পরিকল্পনা। চূড়ান্ত ফ্লাইট সংখ্যা যাত্রী চাহিদা, বহরের প্রাপ্যতা ও পরিচালন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
পিক সিজনের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে বহর সম্প্রসারণেও কাজ করছে এয়ার অ্যাস্ট্রা।
এয়ারলাইনটির তথ্য অনুযায়ী, বহরে তিনটি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনার মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি ATR উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
বহরে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ যুক্ত হলে শুধু নতুন ফ্লাইট বাড়ানো নয়, বিদ্যমান সূচি পরিচালনায়ও এয়ারলাইনটির সক্ষমতা বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে মেস-বাহ-উল ইসলাম জানিয়েছেন, ইন-ফ্লাইট, গ্রাউন্ড ও বিক্রয় সেবার মান ধরে রাখতে নিয়মিত কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনে বিমানভাড়া ও হোটেল খরচ ভ্রমণ বাজেটের বড় অংশ।
এয়ারলাইন ও হোটেল একসঙ্গে প্যাকেজ তৈরি করলে পর্যটক একটি জায়গা থেকেই ভ্রমণের প্রধান দুটি সেবা বুক করার সুযোগ পান। আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে এ ধরনের flight-plus-hotel package বহুল ব্যবহৃত হলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনে এর আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে কক্সবাজারের মতো বিমাননির্ভর জনপ্রিয় গন্তব্যে এয়ারলাইন, হোটেল, স্থানীয় পরিবহন ও পর্যটন কার্যক্রমকে একটি প্যাকেজের মধ্যে আনা গেলে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হতে পারে।
বাংলাদেশে শীতকাল সাধারণত অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ব্যস্ত সময়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ সময় কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে ভ্রমণ বাড়ে।
ফলে পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা, আগাম টিকিট অফার এবং হোটেলের সঙ্গে যৌথ প্যাকেজ এয়ারলাইনগুলোর জন্য বাড়তি যাত্রী আকর্ষণের সুযোগ তৈরি করে।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত আসন সরবরাহ যাত্রীদের ভ্রমণের সময় নির্বাচনে আরও বিকল্প দিতে পারে।
তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬-এ বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিচ্ছে।
এবারের আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে অংশ নিচ্ছে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ।
এছাড়া দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস, হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের গন্তব্য, পণ্য, সেবা ও বিশেষ ভ্রমণ অফার দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরছে।
এ ধরনের পর্যটন মেলা শুধু ছাড়ে টিকিট বা প্যাকেজ বিক্রির জায়গা নয়; এয়ারলাইন, হোটেল ও ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব তৈরিরও সুযোগ করে দেয়।
এয়ার অ্যাস্ট্রার টিকিটে ২০ শতাংশ ছাড় এবং কক্সবাজারকেন্দ্রিক যৌথ হোটেল প্যাকেজ সেই সমন্বিত পর্যটন বিপণনেরই একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে আসন্ন মৌসুমে কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পর্যটন গন্তব্যগুলোর একটিতে বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
সূত্র: এয়ার অ্যাস্ট্রা ও ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০২৬-এ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য
মন্তব্য করুন