এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সরবরাহ করা খাবারে তেলাপোকা পাওয়া এবং উড়োজাহাজে তেলাপোকা-ছারপোকার উপস্থিতির অভিযোগের পর খাবারের নিরাপত্তা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি)। অভিযোগ পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সাত দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানে পরিবেশন করা একটি খাবারের প্রধান পদের মধ্যে ছোট একটি তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর খাবার প্রস্তুত থেকে শুরু করে প্যাকিং, পরিবহন ও উড়োজাহাজে তোলা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়।
নির্দেশনায় খাবারের বক্স নিরাপদ ফয়েল কভার দিয়ে যথাযথভাবে মোড়ানো ও সিল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবহন ও উড়োজাহাজে লোডিংয়ের সময় খাবার বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমে।
একই সঙ্গে খাবার পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রলি নিয়মিত ও যথাযথভাবে পরিষ্কার ও ধোয়া, খাবার বাটিতে পরিবেশনের পর দ্রুত সিল করা এবং প্যাকিং ও লোডিংয়ে যুক্ত কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। শিফট ইনচার্জদেরও এসব কার্যক্রমে তদারকি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু ক্যাটারিং এলাকাই নয়, উড়োজাহাজের ভেতরের পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের দায়িত্বও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি খাবারের গুদাম এবং উড়োজাহাজে খাবার তোলার আগের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সমন্বিত pest-control ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
এয়ারলাইন ক্যাটারিং সাধারণ রেস্তোরাঁর খাবার পরিবেশনের তুলনায় একটি দীর্ঘ supply chain-এর মধ্য দিয়ে যায়। খাবারের কাঁচামাল গ্রহণ, সংরক্ষণ, রান্না, portioning, packing, chilled storage, catering truck-এ পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত aircraft galley-তে তোলা—প্রতিটি ধাপেই hygiene ও contamination control গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে কোনো খাবারে পোকামাকড় পাওয়া গেলে শুধু রান্নাঘর পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়। কোথায় contamination হয়েছে সেটি শনাক্ত করতে পুরো food-handling chain পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এ কারণেই খাবারের পাত্র দ্রুত সিল করা, ট্রলি পরিষ্কার রাখা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি storage ও loading area-তে নিয়মিত pest monitoring গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের অভিযোগের পাশাপাশি বিমানের একটি উড়োজাহাজে পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়ে ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর থেকেও সতর্কতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই পাঠানো একটি ই-মেইলে বিজি৩৫৫ ফ্লাইটের উড়োজাহাজে পোকামাকড়ের কারণে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর শরীরে কামড়ের সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা জানানো হয়। তাকে বিমানবন্দরের জরুরি চিকিৎসা বিভাগে নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দৈনিক স্পষ্টবাদী
বিজি৩৫৫ বর্তমানে ঢাকা থেকে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এই রুটে বোয়িং ৭৮৭-৮ পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজে নতুন করে pest-control/disinfection কার্যক্রম সম্পন্ন করে তার সনদ ফিউমিচিনো বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দৈনিক স্পষ্টবাদী
এখানে একটি বিষয় আলাদা করে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ cleaning বা জীবাণুনাশক ব্যবহার মূলত ময়লা ও অণুজীব নিয়ন্ত্রণের জন্য করা হয়। কিন্তু তেলাপোকা, ছারপোকা বা অন্য pest নির্মূলের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক pest-control treatment।
বিশেষ করে উড়োজাহাজে এই কাজ সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। যাত্রী কেবিনের পাশাপাশি galley, seat structure, carpet, storage compartment এবং অন্যান্য লুকানো স্থানে pest-এর উপস্থিতি আছে কি না সেটিও পরীক্ষা করতে হয়।
এ কারণে কোনো একটি উড়োজাহাজে সমস্যা শনাক্ত হলে শুধু দৃশ্যমান পোকামাকড় সরিয়ে ফেলার পরিবর্তে পুনরায় inspection এবং প্রয়োজনীয় treatment করা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের জন্য inflight meal গুরুত্বপূর্ণ সেবার অংশ। খাবারের মধ্যে কোনো পোকামাকড় বা অন্য foreign object পাওয়া গেলে সেটি শুধু যাত্রীর অস্বস্তির কারণ নয়; catering hygiene এবং quality-control ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
একইভাবে বিদেশি বিমানবন্দরে কোনো উড়োজাহাজের পরিচ্ছন্নতা বা pest-control নিয়ে আপত্তি উঠলে সেটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের operational reputation-এর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি সমস্যাটি food preparation, storage, transportation নাকি aircraft environment-এর কোন পর্যায়ে তৈরি হয়েছে—সেটি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিএফসিসির জিএম মো. আরিফুল হাসান সাধন জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করা হচ্ছে এবং খাবারে কোনো ধরনের পোকামাকড় যাতে না থাকে, সে বিষয়ে তদারকি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার ঘটনাটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
তবে এমন কোনো সম্ভাবনার কথা বলা হলেও তদন্তে প্রমাণিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। যাত্রী নিরাপত্তা ও খাদ্যের মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত অভিযোগের উৎস শনাক্ত করা, পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং সংশোধনী ব্যবস্থাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
বিএফসিসির সাত দফা নির্দেশনা সেই দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। এখন এসব নির্দেশনা বাস্তবে কতটা নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে এবং catering facility থেকে aircraft cabin পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় pest-control ও food-safety monitoring কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন; BG355 রুটসংক্রান্ত প্রকাশিত ফ্লাইট তথ্য।
মন্তব্য করুন