মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং যাত্রীদের বুকিং প্রবণতায় পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে ইউরোপের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা উইজ এয়ার। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে এয়ারলাইনটির অপারেটিং লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। অথচ গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৭৫ লাখ ইউরো মুনাফা করেছিল।
উইজ এয়ারের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসানের পেছনে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি ব্যয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে এপ্রিলের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের বেশি পৌঁছায়। এর প্রভাব পড়ে জেট জ্বালানির দামেও।
এ সময়ে উইজ এয়ারের জ্বালানি ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৬১ কোটি ৫ লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে। বাজারে জ্বালানির মূল্য আরও বেশি বাড়লেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাগত বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এর কিছুটা প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংঘাতের কারণে বছরের শুরুতে তেল আবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্য এবং সাইপ্রাসের কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল উইজ এয়ারকে। এতে প্রায় ৫ কোটি ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অনেক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলেও নেটওয়ার্ক পরিচালনায় কৌশল বদলেছে এয়ারলাইনটি। দীর্ঘপাল্লার মধ্যপ্রাচ্যগামী রুট কমিয়ে ইউরোপের স্বল্প দূরত্বের রুটে বেশি উড়োজাহাজ পরিচালনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে আর্থিক চাপের মধ্যেও যাত্রী পরিবহনে বড় প্রবৃদ্ধি পেয়েছে উইজ এয়ার। এপ্রিল থেকে জুনে এয়ারলাইনটি ২ কোটি ১২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মোট রাজস্ব ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৫০ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে।
উইজ এয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োজেফ ভারাদি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও যাত্রীদের বুকিং আচরণের পরিবর্তনে বিমান পরিবহন খাত অস্থির সময় পার করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, ইউরোপীয় রুটে কার্যক্রম বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এয়ারলাইনটি।
মন্তব্য করুন