এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাত্রীদের অসদাচরণ, ক্রুদের নির্দেশ অমান্য, হুমকি কিংবা শারীরিক সংঘর্ষ বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। আসন, cabin baggage, মদ্যপান কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া সামান্য ঘটনা কখনো কখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পুরো ফ্লাইট পরিচালনাই ব্যাহত হতে পারে।
International Air Transport Association (IATA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রতি ৪৮০টি ফ্লাইটে একটি unruly passenger incident নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২২ সালে এই হার ছিল প্রতি ৫৬৮ ফ্লাইটে একটি। ক্রুদের নির্দেশ অমান্য, verbal abuse, অতিরিক্ত মদ্যপান ও শারীরিক সংঘর্ষ এ ধরনের ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের আইন ও এয়ারলাইনের নীতিমালা অনুযায়ী যাত্রীকে ফ্লাইটে restraint করা, গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর, জরিমানা কিংবা ফৌজদারি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে। কিছু এয়ারলাইন ভবিষ্যৎ ভ্রমণেও সংশ্লিষ্ট যাত্রীর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
IATA ও International Civil Aviation Organization (ICAO) দীর্ঘদিন ধরে unruly and disruptive passenger-এর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
সম্প্রতি Biman Bangladesh Airlines-এর সিলেট–লন্ডন ফ্লাইটে দুই যাত্রীর মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রকাশিত ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা যায়। পরে cabin crew পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা সামনে আসেনি।
এ ধরনের ঘটনায় ভিডিওর দৃশ্যের বাইরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় কতটা—তা যথাযথ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
উড়োজাহাজের cabin সাধারণ কোনো জনসমাগমস্থল নয়। হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় একটি সংঘর্ষ cabin crew-কে তাদের মূল safety duties থেকে সরিয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে পাইলটকে নিকটবর্তী বিমানবন্দরে diversion-এর সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।
এতে অতিরিক্ত fuel, landing ও ground handling খরচের পাশাপাশি যাত্রীদের দীর্ঘ বিলম্ব এবং পরবর্তী ফ্লাইট সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সহিংসতা বা ক্রুদের নির্দেশ অমান্য করা অন্য যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ও যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে unruly passenger management-এর জন্য স্পষ্ট ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গুরুতর onboard incident বাধ্যতামূলকভাবে report ও investigate করা, airline-airport-law enforcement সমন্বয় জোরদার এবং cabin crew-দের conflict management ও de-escalation training বাড়ানো কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
একই সঙ্গে যাত্রীদেরও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন—উড়োজাহাজে crew instruction মানা শুধু শিষ্টাচারের বিষয় নয়, এটি aviation safety-এর অংশ। গুরুতর অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী আইনি পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সামগ্রিক যাত্রীর তুলনায় unruly passenger-এর সংখ্যা কম হলেও একটি ঘটনাই শত শত যাত্রীর নিরাপত্তা ও একটি ফ্লাইটের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক Biman-এর ঘটনাটি তাই আকাশপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তাকে আবার সামনে এনেছে।
সূত্র: International Air Transport Association (IATA); International Civil Aviation Organization (ICAO)
মন্তব্য করুন