এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে ঢাকায় কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (Korea Visa Application Centre—KVAC) চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হবে।
KVAC চালুর পর সাধারণ ভিসার আবেদন জমা দেওয়া এবং আবেদন প্রক্রিয়া শেষে পাসপোর্ট সংগ্রহের কার্যক্রম নতুন কেন্দ্রটির মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
তবে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার আবেদন আগের মতো সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
নতুন কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের ঠিকানা—
২এফ, বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ার, প্লট-৮০, ব্লক-বি, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, ঢাকা।
ফলে ২ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ ভিসার আবেদনকারীদের নতুন ব্যবস্থার আওতায় এই কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে।
নতুন কেন্দ্র চালুর ফলে দূতাবাসে সরাসরি সাধারণ ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাধারণ ভিসার আবেদনকারীদের KVAC-এ সরাসরি গিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
তবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের পদ্ধতি এখনো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, ২৭ আগস্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং কখন থেকে শুরু হবে এবং কীভাবে আবেদনকারীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ফলে আবেদনকারীদের ২৭ আগস্টের পর দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ ভিসার ক্ষেত্রে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম KVAC-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে—
ভিসার আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং আবেদন প্রক্রিয়া শেষে পাসপোর্ট সংগ্রহ।
ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি, আবেদনপদ্ধতি এবং অন্যান্য শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই পুরোনো চেকলিস্ট অনুসরণ করে সরাসরি আবেদন জমা না দিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর সংশোধিত নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
KVAC চালু হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের সব কনস্যুলার সেবা নতুন কেন্দ্রে স্থানান্তর হচ্ছে না।
নথি নোটারাইজেশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট-সংক্রান্ত সেবা আগের মতোই দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস থেকে পাওয়া যাবে।
একইভাবে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার আবেদনও সরাসরি দূতাবাসে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
ফলে আবেদনকারীদের কোন সেবার জন্য KVAC এবং কোন সেবার জন্য দূতাবাসে যেতে হবে, সেটি আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
KVAC-এর দৈনিক কার্যক্রমের সময়সূচি, আবেদন জমা দেওয়ার বিস্তারিত পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসা ফি-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য পরবর্তী সময়ে পৃথকভাবে প্রকাশ করা হবে।
এ কারণে নতুন কেন্দ্রের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ প্রদান বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট কেনার চেষ্টা না করাই নিরাপদ।
বিশেষ করে অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর আগেই কেউ যদি ‘Confirmed Appointment’, ‘Guaranteed Slot’ বা দ্রুত দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেটি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ভিসা আবেদন কেন্দ্র সাধারণত আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং সিদ্ধান্তের পর পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার মতো সেবা দিয়ে থাকে।
ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সফলভাবে আবেদন জমা দেওয়া বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হবে।
এ কারণে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য না দেওয়া এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী সঠিক নথি জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
২ সেপ্টেম্বরের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ ভিসার জন্য আবেদন করতে চাইলে প্রথমেই নতুন KVAC ব্যবস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।
বিশেষ করে ২৭ আগস্ট প্রকাশিতব্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নতুন তালিকা, ভিসা ফি এবং আবেদন গ্রহণের সময়সূচি দেখে তারপর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা নিরাপদ।
ভিসার সিদ্ধান্ত পাওয়ার আগে পরিবর্তন বা ফেরতযোগ্য নয় এমন বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিং করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত।
ঢাকায় KVAC চালুর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ ভিসা আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট বিতরণের জন্য আলাদা একটি কেন্দ্র যুক্ত হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস
মন্তব্য করুন