প্রকাশিত: 2 October 2026, 9:56:14 Pm
|অনলাইন সংস্করণ
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি ইঞ্জিনে প্রযুক্তিগত ত্রুটির সংকেত পাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে এসেছে। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ৭০ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য নিরাপদে রয়েছেন।
নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাইলট দ্রুত ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পর উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনায় কোনো যাত্রী বা ক্রু আহত হননি।
উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ত্রুটির সংকেত
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এয়ার অ্যাস্ট্রার ATR 72-600 উড়োজাহাজটির সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল।
বিভিন্ন কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বের পর দুপুর ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন করে।
তবে আকাশে ওঠার মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই একটি ইঞ্জিনে প্রযুক্তিগত ত্রুটির সংকেত পান পাইলট।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বিমানবন্দরে নেওয়া হয় জরুরি প্রস্তুতি
উড়োজাহাজটি ফিরে আসার তথ্য পাওয়ার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়।
এরপর উড়োজাহাজটি নিরাপদে বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং যাত্রীদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।
আকস্মিক পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইনটির কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়।
ঠিক কী ত্রুটি হয়েছিল, এখনও নিশ্চিত নয়
উড়োজাহাজটির ইঞ্জিনে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার অ্যাস্ট্রার আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকৌশলীরা উড়োজাহাজটি পরীক্ষা করে ত্রুটির উৎস শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু ‘ইঞ্জিনে প্রযুক্তিগত ত্রুটির সংকেত’ পাওয়ার তথ্যের বাইরে সমস্যাটির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
প্রকৌশলগত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরই সমস্যাটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
বিকল্প উড়োজাহাজে চট্টগ্রাম গেলেন যাত্রীরা
ঘটনার পর যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করে এয়ার অ্যাস্ট্রা।
পরে সেই উড়োজাহাজে যাত্রীদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্ব হলেও তারা গন্তব্যে যাত্রা সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
কোনো উড়োজাহাজে সম্ভাব্য কারিগরি সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর সেটিকে প্রয়োজনীয় প্রকৌশল পরীক্ষা ছাড়া পুনরায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার না করা বিমান নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আকাশ থেকে ফিরে আসা মানেই বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নয়
যাত্রীদের কাছে উড্ডয়নের পর কোনো ফ্লাইট বিমানবন্দরে ফিরে আসার ঘটনা উদ্বেগজনক মনে হতে পারে। তবে বিমান চলাচলে প্রযুক্তিগত সতর্কতা পাওয়ার পর ফিরে আসা নিজেই একটি নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত।
আধুনিক উড়োজাহাজে বিভিন্ন সিস্টেমের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একাধিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকে। কোনো অস্বাভাবিকতা বা সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত হলে পাইলট নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।
সমস্যার ধরন, উড়োজাহাজের অবস্থান, আবহাওয়া এবং নিকটবর্তী উপযুক্ত বিমানবন্দর বিবেচনা করে ফ্লাইট চালিয়ে যাওয়া, ফিরে আসা অথবা অন্য বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তাই এ ধরনের প্রত্যাবর্তনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়। বরং প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্ভাবনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলকভাবে অবতরণ করা বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ।
ATR 72-600 কী ধরনের উড়োজাহাজ
ATR 72-600 একটি টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ। স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের আঞ্চলিক রুটে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটের মতো তুলনামূলক স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজের ব্যবহার প্রচলিত।
তবে যেকোনো উড়োজাহাজের ক্ষেত্রেই কোনো কারিগরি সতর্কতা দেখা দিলে সেটির কারণ শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ই গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনাটিতে যাত্রী ও ক্রুদের সবাই নিরাপদে থাকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ফ্লাইট ক্রু, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
এখন সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজের কারিগরি পরীক্ষার ফলই নির্ধারণ করবে ঠিক কী কারণে ইঞ্জিনে ত্রুটির সংকেত এসেছিল এবং কোনো যন্ত্রাংশ মেরামত বা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে কি না।
বিমান চলাচলে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে অনুমানের পরিবর্তে প্রকৌশলগত পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
শাহজালাল বিমানবন্দরে কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণ, নিষি