এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক: হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। পাসপোর্টের তথ্য যাচাই আরও জোরদার এবং ভ্রমণ নথির সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগ অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় পাসপোর্ট হারানো বা চুরির তথ্য জানানো, পুলিশের মাধ্যমে যাচাই, পুনরায় পাসপোর্ট ইস্যু এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, চুরি হলে কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে দ্রুত অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিষয়টি জানাতে হবে।
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে ওই জিডির তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর পরিচয়, আগের পাসপোর্টের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পুনরায় পাসপোর্ট ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্যও নতুন নির্দেশনায় পৃথক প্রক্রিয়া রাখা হয়েছে।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে এবং দেশে ফেরা কিংবা পরবর্তী ভ্রমণের জন্য নতুন পাসপোর্ট বা প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথির দরকার হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের পর আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারানো একজন যাত্রীর ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈধ পাসপোর্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ভ্রমণ নথি ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রা এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হতে পারে।
তাই বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো হারানো ও চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (IMS) অন্তর্ভুক্ত করা।
এর ফলে কোনো হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য কেউ বিমানবন্দর বা অন্যান্য ইমিগ্রেশন পয়েন্ট দিয়ে ভ্রমণের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষে সেটি শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে।
প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছেও পাঠানো হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো বাতিল বা হারানো ভ্রমণ নথি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের সম্ভাব্য চেষ্টা প্রতিরোধ করা।
হারানো পাসপোর্টের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করার পর সেটির স্ট্যাটাস পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে হারানো হিসেবে রিপোর্ট করা কোনো পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও সেটি দিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চেষ্টা না করে আগে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এর বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া নিরাপদ।
কারণ আন্তর্জাতিক ভ্রমণে শুধু হাতে একটি পাসপোর্ট থাকা যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে সেটির বৈধ অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ফ্লাইটের আগে এয়ারলাইন ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রীর পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি পরীক্ষা করতে পারে।
একটি পাসপোর্ট শুধু পরিচয়পত্র নয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ নথি। হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট অন্য ব্যক্তির হাতে গেলে পরিচয় জালিয়াতি কিংবা অবৈধ আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই কারণে হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য দ্রুত রেকর্ড করা এবং পুনরায় ইস্যুর আগে আবেদনকারীর তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সরকারের নতুন নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাসপোর্ট হারানো বা চুরির অভিযোগ যাচাই এবং পুনরায় ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে প্রকৃত আবেদনকারীদের পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করা এবং অন্যদিকে হারানো বা চুরি হওয়া বাংলাদেশি পাসপোর্টের অপব্যবহারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
মন্তব্য করুন