aviation
প্রকাশিত: 5 October 2026, 9:12:24 Pm
অনলাইন সংস্করণ

২০২৭ সালের মধ্যে ২১ নতুন বোয়িং, বড় সম্প্রসারণে ইউএস-বাংলা

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এক যুগের পথচলা পেরিয়ে বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তার, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্গো সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর যাত্রীসেবা উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

পরিকল্পনার অন্যতম বড় অংশ হচ্ছে ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করা। পরিকল্পনায় বোয়িং ৭৩৭-৮ ও ৭৩৭-৮০০ মডেলের ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট ও আসন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

লক্ষ্য ২০ দেশের ৩০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য

বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও বড় করতে চায় ইউএস-বাংলা। একই সময়ের মধ্যে ২০টি দেশের ৩০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের লক্ষ্য রয়েছে এয়ারলাইনটির।

দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে এসব গন্তব্যের সবগুলোতে ফ্লাইট চালুর চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারিত নয়। নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে যাত্রীচাহিদা, দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি, ট্রাফিক রাইটস, বিমানবন্দরের স্লট, উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা এবং রুটের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

ফলে শুধু নতুন উড়োজাহাজ কেনা নয়, সঠিক সময়ে সঠিক আন্তর্জাতিক বাজার নির্বাচন করাও ইউএস-বাংলার সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সাফল্যের অন্যতম শর্ত হবে।

বাড়বে বৈমানিক-প্রকৌশলীসহ দক্ষ জনবলের প্রয়োজন

২১টি নতুন উড়োজাহাজ এবং বড় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে।

বৈমানিক, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু ও গ্রাউন্ড অপারেশন কর্মীর পাশাপাশি ফ্লাইট অপারেশন, নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত খাতেও জনবল ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তার অবকাঠামোও বহরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্প্রসারণের প্রয়োজন হবে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তাই ইউএস-বাংলার নিজস্ব জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় এয়ারলাইন্সের অংশ বাড়ানোর সুযোগ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দেশীয় এয়ারলাইন্সের বহর ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাড়লে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য আরও সরাসরি ও প্রতিযোগিতামূলক বিকল্প তৈরির সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাইরে নতুন বাজারে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সের উপস্থিতি বাড়ানো গেলে দেশের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে আরও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের যাত্রীদের ঢাকা হয়ে ভ্রমণের প্রয়োজনও কমতে পারে। এতে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ব্যবসা ও পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কার্গো হতে পারে নতুন আয়ের ক্ষেত্র

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এয়ার কার্গো খাতেও সম্প্রসারণের সুযোগ দেখছে এয়ারলাইনসটি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং দ্রুত সরবরাহ প্রয়োজন এমন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে বিমান কার্গোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কার্গো ও লজিস্টিকস সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যাত্রী পরিবহনের বাইরে এয়ারলাইনটির জন্য অতিরিক্ত রাজস্বের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের দ্রুত পণ্য পরিবহনের বিকল্পও বাড়বে।

দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জও

বড় বহর ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক একটি এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়ালেও এর সঙ্গে পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জও বাড়ে।

বিশেষ করে ফ্লাইট নিরাপত্তা, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, বৈমানিক ও কেবিন ক্রু প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত প্রকৌশলী, সময়নিষ্ঠতা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এর পাশাপাশি নতুন প্রতিটি রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী ও রাজস্ব নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। কারণ শুধু নেটওয়ার্ক বড় করলেই বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত হয় না; দীর্ঘমেয়াদে প্রতিটি রুটের পরিচালন ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়।

সব মিলিয়ে ইউএস-বাংলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন উড়োজাহাজ, আন্তর্জাতিক গন্তব্য, দক্ষ মানবসম্পদ, কার্গো এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সমন্বয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

তবে পরিকল্পনার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নতুন উড়োজাহাজ সময়মতো বহরে যুক্ত করা, লাভজনক রুট নির্বাচন এবং দ্রুত সম্প্রসারণের মধ্যেও নিরাপত্তা ও সেবার মান ধরে রাখার ওপর।

সূত্র: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে প্রায়োরিটি সেবা, বিমা

1

জেদ্দায় বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা: রিয়াদ যাত্রীদ

2

১৮০ দিনে বিমান খাতে সরকারের বড় অগ্রগতি, যাত্রীসেবা ও বহর সম্

3

আইকাও অডিটে সাফল্যেই খুলতে পারে ঢাকা–নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট

4

রোমে আটকে পড়া বিমানের যাত্রীরা দুপুরে ফিরছেন দেশে

5

ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্যে থার্ড টার্মিনালের প্রস্তুতি জোরদার,

6

বেবিচক কর্মীদের নিজস্ব মেডিকেল সেন্টারের দাবি

7

উড়োজাহাজে যাত্রীদের মারামারি বাড়ছে, ‘Unruly Passenger’ ঠেকাত

8

নীতিমালা উপেক্ষায় ঝুঁকিতে আকাশপথ

9

নিরাপত্তায় বদলে যাচ্ছে শাহজালাল, নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

10

বিমানবন্দরের আকাশে ড্রোন কতটা বিপজ্জনক? বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বন্

11

NCASC-এর ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত, আসন্ন ICAO Audit সামনে রেখে এভিয়

12

জাপানে উড়োজাহাজের ভেতর সাপ, বাতিল ফ্লাইট

13

ঘটনা ঘটলেই সব দোষ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের? যাত্রী গ্রহণে এসে

14

পিপিপিতে নতুন রূপ পাচ্ছে বগুড়া বিমানবন্দর, আন্তর্জাতিক মানে

15

আগুনের ঘটনার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জ বন্ধ

16

১০ মাসে উড়োজাহাজে পাখির আঘাত ২১২ বার, প্রতিরোধে বড় উদ্যোগ বে

17

তৃতীয় টার্মিনালে অনুমোদনের বাইরে নির্মাণকাজের অভিযোগ, বেবিচক

18

কারিগরি ত্রুটিতে ফিটস এয়ারের ফ্লাইটে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা, যাত্রী

19

যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবতরণের পর সি-প্লেনে আগুন, ১১ আরোহীকে জী

20