যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব আবারও মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে পড়তে শুরু করেছে। টানা ১১ দিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন এয়ারলাইন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং হরমুজ প্রণালীর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও অবনতি হওয়ায় পুরো অঞ্চলের বিমান চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (EASA) সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আকাশপথ ব্যবহারে নতুন সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান উপসাগরের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান, ইরাক ও লেবাননের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ পরিচালনা না করার নির্দেশনাও বহাল রাখা হয়েছে।
বর্তমানে অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশের বিমানবন্দর সচল থাকলেও বিভিন্ন এয়ারলাইন পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এমিরেটস, ইতিহাদ, কাতার এয়ারওয়েজ, ফ্লাইদুবাই, গালফ এয়ার, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং ওমান এয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন এনেছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, ক্যাথে প্যাসিফিক, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, এয়ার কানাডা, ফিনএয়ার ও ভার্জিন আটলান্টিকসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন মধ্যপ্রাচ্যের কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করেছে।
আকাশপথ পরিবর্তনের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে কিছু রুটে যাত্রাসময় বেড়েছে এবং অপারেশনাল ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এয়ারলাইনগুলো যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পাশাপাশি যাত্রার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থেকে সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বাতিল বা বিলম্বিত ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনে পুনঃবুকিং বা রিফান্ড সুবিধা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন