এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশ সড়ক ও পার্কিং এলাকায় সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা কেটে গেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৮টার পর থেকে দ্রুত পানি নামতে শুরু করে এবং রাত ৯টার মধ্যে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও পার্কিং এলাকা পুরোপুরি জলমুক্ত হয়।
দিনের বেলায় জলাবদ্ধতার কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ ওঠানামা বা ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট অপারেশন স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের হিসাবে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পতেঙ্গা ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ২০৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিওতে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও পার্কিং এলাকার বড় অংশ পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা যায়।
কোনো কোনো স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যাত্রীদের লাগেজ হাতে নিয়েই পানি অতিক্রম করে টার্মিনাল ভবনের দিকে যেতে হয়। এতে বিশেষ করে ভারী ব্যাগ বহনকারী যাত্রী, প্রবীণ ও শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারীদের বাড়তি দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পার্কিং এলাকায় থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির চাকার বড় অংশও পানির নিচে চলে যায়। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি চালক ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থানরত অন্যদের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়।
যাত্রী সাইদুল ইসলাম জানান, পানি জমে থাকায় গাড়ি থেকে নেমে টার্মিনাল ভবনে পৌঁছাতে তাকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক যাত্রীকে লাগেজ নিয়েই পানির মধ্যে হেঁটে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরের পর টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিমানবন্দরের প্রবেশ সড়ক ও পার্কিং এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়নি। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমে যাওয়ার পর পানি নামতে শুরু করে।
রাত ৮টার পর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয় এবং রাত ৯টার মধ্যে প্রবেশপথ ও পার্কিং জোন সম্পূর্ণ জলমুক্ত হয়ে যায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ২০৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণের কারণে শুধু বিমানবন্দর নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে বিমানবন্দরের প্রবেশ সড়ক ও পার্কিং এলাকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। পার্কিং এলাকার পাশের কয়েকটি দোকানেও পানি ঢুকে পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দিনভর যাত্রীদের প্রবেশ ও পার্কিং এলাকায় দুর্ভোগ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, জলাবদ্ধতার প্রভাব বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশনে পড়েনি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে ও উড়োজাহাজ পরিচালনাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট ওঠানামা করেছে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারী বৃষ্টির সময় রানওয়ের পানি নিষ্কাশন, দৃশ্যমানতা, বাতাসের গতি এবং বজ্রঝড়সহ বিভিন্ন আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ফ্লাইট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে সোমবারের জলাবদ্ধতা মূলত বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও পার্কিং এলাকাকে প্রভাবিত করেছে।
ফলে টার্মিনালে পৌঁছাতে যাত্রীদের সমস্যা হলেও বিমান চলাচল বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
একটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম শুধু রানওয়ে ও টার্মিনালের ভেতরের অপারেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে নেমে টার্মিনালে প্রবেশ করা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাই যাত্রী অভিজ্ঞতার অংশ।
এভিয়েশন ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালের বাইরের প্রবেশ সড়ক, পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামার এলাকাকে সাধারণভাবে ‘ল্যান্ডসাইড’ অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে এসব এলাকায় পানি জমে গেলে ফ্লাইট স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীরা সময়মতো চেক-ইন কাউন্টারে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে পারেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টির সময় বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের পাশাপাশি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সড়কের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ফ্লাইট স্বাভাবিক থাকলেও জলাবদ্ধতা বা যানজটের কারণে টার্মিনালে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তাই প্রতিকূল আবহাওয়ার দিনে কিছুটা বাড়তি সময় হাতে রেখে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রীদের জন্য নিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সোমবারের ঘটনায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশন স্বাভাবিক থাকলেও প্রবেশপথের জলাবদ্ধতা যাত্রীদের জন্য বড় দুর্ভোগ তৈরি করেছিল। তবে বৃষ্টি কমার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যাওয়ায় রাত থেকে বিমানবন্দর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
সূত্র: শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস
মন্তব্য করুন