হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তে এখনো দুই ধাপে ম্যানুয়াল বা শরীর স্পর্শ করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশি-বিদেশি যাত্রী, সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, এ ধরনের পদ্ধতি যেমন যাত্রীদের জন্য বিব্রতকর, তেমনি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রবেশের সময় প্রথমে যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যানিং করা হয়। এরপর আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর পার হওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা হাতে স্পর্শ করে শরীর তল্লাশি করেন। পরে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে বোর্ডিং গেটে যাওয়ার সময় একই প্রক্রিয়া আবারও অনুসরণ করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে যাত্রীদের প্যান্টের বেল্ট, জুতা, হাতঘড়ি, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ধাতব সামগ্রী খুলে ট্রেতে রেখে স্ক্যানারে পাঠাতে হয়। এরপর পুনরায় আর্চওয়ে গেট অতিক্রম করার পর আবারও শরীর স্পর্শ করে তল্লাশি করা হয়। নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও সেখানেও একই ধরনের ম্যানুয়াল তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ধরনের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী। তাদের অভিযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে বেল্ট ও জুতা খুলে দেওয়ার পরও শরীর স্পর্শ করে বারবার তল্লাশি করা অপ্রয়োজনীয় এবং অপমানজনক। এতে একদিকে যাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিটি যাত্রীর পেছনে অতিরিক্ত সময় লাগায় দীর্ঘ সারি ও ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।
বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞদেরও মত, উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ বিমানবন্দরে প্রয়োজন ছাড়া এ ধরনের ম্যানুয়াল তল্লাশির পরিবর্তে উন্নত হিউম্যান বডি স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়। এতে যাত্রীদের শরীরে স্পর্শ না করেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাদের মতে, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও দ্রুত এ প্রযুক্তি চালু করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর আসিফ ইকবাল বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করেই তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ইতোমধ্যে ২০টি আধুনিক হিউম্যান বডি স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে যাত্রীদের আর শরীর স্পর্শ করে এ ধরনের নিরাপত্তা তল্লাশির প্রয়োজন হবে না এবং যাত্রীসেবাও আরও আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
মন্তব্য করুন