এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে মাঝআকাশে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় রাজস্থানের জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফ্লাইট AI1886 নিরাপদে জয়পুরে অবতরণ করে। উড়োজাহাজটিতে প্রায় ১৪০ জন আরোহী ছিলেন এবং সবাই নিরাপদে বের হয়ে আসেন।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা বলা হলেও এয়ার ইন্ডিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো ইঞ্জিন বিকল হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেনি। এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, একটি ‘technical issue’ শনাক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে ফ্লাইটটি জয়পুরে ডাইভার্ট করা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, AI1886 রবিবার সকালে ভোপালের রাজা ভোজ বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করে। যাত্রাপথে কারিগরি সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর ককপিট ক্রু জয়পুরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেয়।
জয়পুর বিমানবন্দরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিরাপত্তাকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণকারী যান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে উড়োজাহাজটি নিরাপদে রানওয়েতে অবতরণ করে।
বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে একটি ইঞ্জিনে ত্রুটির কথা বলা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে বাম ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে এয়ার ইন্ডিয়ার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইঞ্জিন ফেইলিওরের কথা বলা হয়নি। এয়ারলাইনটি শুধু কারিগরি সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি জয়পুরে ডাইভার্ট করার কথা নিশ্চিত করেছে। ফলে বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে নিশ্চিত ‘ইঞ্জিন ফেইলিওর’ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ হবে না।
জয়পুরে অবতরণের পর উড়োজাহাজটির সব যাত্রী নিরাপদে নেমে আসেন। ঘটনায় কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখিত। জয়পুরে এয়ারলাইনটির গ্রাউন্ড টিম যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়।
পরবর্তী সময়ে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয় এবং যাত্রীদের সড়কপথে দিল্লিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অবতরণের পর উড়োজাহাজটিকে আর ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি না দিয়ে কারিগরি পরীক্ষার জন্য রাখা হয়। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত নিরাপত্তা মান অনুযায়ী উড়োজাহাজটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এ ধরনের পরীক্ষায় সাধারণত সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের ত্রুটি, ইঞ্জিনের বিভিন্ন প্যারামিটার, ককপিটে পাওয়া সতর্কবার্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সংশোধন শেষ হওয়ার পরই উড়োজাহাজটি পুনরায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফিরতে পারে।
এভিয়েশনে কোনো কারিগরি সমস্যা শনাক্ত হলে পাইলটরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কাছের উপযুক্ত বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে পারেন। প্রয়োজনে বিমানবন্দরে আগাম জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখাও প্রচলিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার অংশ।
তাই কোনো ফ্লাইটে জরুরি অবস্থা ঘোষণা বা সতর্কতামূলক অবতরণের অর্থ এই নয় যে উড়োজাহাজটি নিশ্চিতভাবে বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
AI1886-এর ক্ষেত্রেও কারিগরি সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর ককপিট ক্রু জয়পুরে ডাইভার্ট করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে। তবে ঠিক কী ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা বিস্তারিত পরীক্ষার পর আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সূত্র: Air India, The New Indian Express ও Times of India
মন্তব্য করুন