এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের এভিয়েশন খাতের বিকাশ ও আকাশপথের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই এই দুই সংস্থার কাজের ক্ষেত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। দেশের সার্বিক আকাশপথের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় দুই প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও আইনি কাঠামো, পরিচালনা পদ্ধতি এবং দায়িত্বের পরিধি অনুযায়ী এদের ভূমিকা সম্পূর্ণ আলাদা।
সহজ ভাষায়, বেবিচক হলো দেশের সার্বিক এভিয়েশনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা রেগুলেটর এবং বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ব্যবস্থাপক। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হলো একটি বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন কোম্পানি বা এয়ারলাইন অপারেটর।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক): আকাশপথের প্রধান নিয়ন্ত্রক
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে বেবিচক (CAAB)। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের সার্বভৌম আকাশসীমা ও বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংস্থাটির মূল দায়িত্ব।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিবহনকারী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হলো শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এবং দেশের জাতীয় পতাকাবাহী (National Flag Carrier) বাণিজ্যিক সংস্থা।
কোথায় এই দুই প্রতিষ্ঠান আলাদা?
যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বেবিচকের ভূমিকা অনেকটা বিআরটিএ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের মতো—যারা সড়ক ও হাইওয়ে নির্মাণ করে, চলাচলের নিয়ম বেঁধে দেয় এবং ফি আদায় করে। আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হলো সেই সড়কে চলাচলকারী একটি বাস বা পরিবহন কোম্পানি, যারা নিয়ম মেনে টিকিট বিক্রি করে যাত্রী পরিবহন করে।
যেহেতু বেবিচক দেশের সর্বোচ্চ এভিয়েশন রেগুলেটর, তাই সরকারি মালিকানাধীন হলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অন্য যেকোনো বেসরকারি বা আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মতোই বেবিচকের নির্ধারিত কঠোর নিরাপত্তা বিধিমালা, ল্যান্ডিং-পার্কিং ফি এবং অপারেশনাল ছাড়পত্র মেনে চলাচল করতে হয়।
মন্তব্য করুন